সর্বোচ্চ
সংখ্যক আগাম ভোট দিয়ে এবার ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভোটাররা।
অভিবাসী ল্যাটিনো (হিস্পানিক) প্রায় সব ভোটই পড়েছে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী
হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে। এতে হতভম্ব হয়ে পড়েছে রিপাবলিকান দল। রিপাবলিকান
প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী জনগণকে দেশ থেকে তাড়িয়ে
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে নিজেদের
অস্তিত্বের স্বার্থেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারিকে বেছে নেন অভিবাসী
ল্যাটিনোরা। অভিবাসীদের ব্যাপক সংখ্যক আগাম ভোট পড়ার পর ডেমোক্রেটিক
সমর্থকরা টুইটারে উল্লাস প্রকাশ করে বলছেন, ‘অবশেষে ট্রাম্প তার নিজের
দেয়াল দেখতে পাচ্ছেন।’ খবর নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, পলিটিকো ও
সিএনএনের। ল্যাটিনো ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোটারের ১২ শতাংশ বা পৌনে
চার কোটি। দেশটির বৈধ ল্যাটিনো ভোটারের সংখ্যা সেদেশের অন্যান্য গোষ্ঠীর
তুলনায় কম হলেও এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং নর্থ
ক্যারোলিনার মতো তিনটি ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্যে ল্যাটিনো ভোটাররা তাড়াতাড়ি
ভোট দেয়ার তৎপরতা দেখাচ্ছেন, তাতে এ নির্বাচনের ফলাফলে তাদের বড় ভূমিকা
থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সিএনএন বলছে এই তিনটি রাজ্যে এ বছর ল্যাটিনো
ভোটারদের ভোট দানের হার গতবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি বলে জানিয়েছে
ক্যাটালিস্ট নামক একটি তথ্য সংস্থা। সংস্থাটি আগাম ভোটের পরিসংখ্যানের ওপর
নজর রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি রাজ্যে ৪ কোটির বেশি ভোটার ইতিমধ্যেই এ
নির্বাচনে তাদের মত জানিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাটিনো ভোটার রয়েছেন প্রায়
দেড় কোটি। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যেগুলোতে মোট ভোটারের ২৮ শতাংশ ল্যাটিনো। পিউ
রিসার্চ সেন্টার হিস্পানিক সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ল্যাটিনোরা সাধারণত
ডেমোক্রেটদের বেশি পছন্দ করে থাকেন। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার
ঝুলিতে ৭১ শতাংশ ল্যাটিনো ভোট পড়েছিল। তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মিট
রমনির পক্ষে গিয়েছিল মাত্র ২৭ শতাংশ ভোট। এবার রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড
ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী প্রচারণায় ল্যাটিনোরা আরও বেশি ডেমোক্রেটিকদের
দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এক রেস্তোরাঁ শ্রমিক গার্সিয়া বলেন, অন্য
নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট খুব ব্যক্তিগত। আমার মতপ্রকাশের যে ক্ষমতা
আছে, তাতে এমন লোককে ভোট দেব যারা এসব (সীমান্তে দেয়াল) করবে না।’
ফ্লোরিডাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ল্যাটিনো ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন
যেখানে ২০০৮ সালে এ পর্যায়ে ল্যাটিনো ভোটদাতাদের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০
হাজার। অর্থাৎ,
কৃষ্ণাঙ্গ বা শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের তুলনায় ল্যাটিনো জনসংখ্যার
ভোটদানের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফ্লোরিডার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ
রাজ্যে (এ রাজ্যের মতো ইলেক্টোরাল ভোটার সংখ্যা ২৯) ল্যাটিনো ভোটারদের এ
তৎপর ভূমিকা সার্বিক ফলাফলের ওপর ভালোরকম প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মার্কিন
রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের ধারণা। পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, ২০০৮ সালে
ফ্লোরিডাতে ওবামা যেখানে ৫৭ শতাংশ ল্যাটিনো ভোট পেয়েছিলেন, চার বছর বাদে
তিনি পান ৬০ শতাংশ ভোট। এবার হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে তারা আরও বেশি উৎসাহিত
হয়েছে। জর্জিয়াতে এরই মধ্যে ৩১ হাজার ল্যাটিনো ভোট দিয়ে দিয়েছেন এবং
সংখ্যাটা গতবারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। যদিও এই রাজ্যে ল্যাটিনো ভোটারের
সংখ্যা খুব বেশি নয়, কিন্তু তাদের মধ্যে আগাম ভোটদানের হার ২০১২ সালের
তুলনায় ১৪৪ শতাংশ। উত্তর ক্যারোলিনার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেও
ল্যাটিনো ভোটারদের আগাম ভোটদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এরই মধ্যে ৩৭
হাজারেরও বেশি ল্যাটিনো ভোটার তাদের ব্যালট প্রদান করেছেন যা গতবারের
তুলনায় ১৪ হাজারেরও বেশি। ২০১২ সালে ওবামা উত্তর ক্যারোলিনায় ৬৮ শতাংশ
ল্যাটিনো ভোটে জিতেছিলেন বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার।

No comments:
Post a Comment