অনেক দিন থেকেই বয়সের কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। কিন্তু তার উপস্থিতি ছিল বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সফল নেতৃত্বের প্রতীক। বাঙালি নেতাদের সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল।
১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আফ্রো-এশীয়-আমেরিকান গণসংহতি সম্মেলনে অংশ নিতে হাভানা গিয়েছিলেন ৬ সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে। তখন মওলানা ভাসানীর সঙ্গে কাস্ত্রোর কথা হয়। মওলানা ভাসানী তার সঙ্গে কথা বলে উজ্জীবিত হয়েছিলেন। এবং পূর্ব বাংলায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হবে সেই প্রত্যয় তার দৃঢ় হয়েছিল। কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফের এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে কিউবা সফরে যান। সেখানে তিনি মহান বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে করমর্দন করে রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন, সে কথা তিনি তার বন্ধুদের গর্ব করে বলতেন। মওলানা ভাসানী ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ কাস্ত্রোর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কাস্ত্রো ছিলেন বাংলার মানুষের পক্ষে।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তিনি তার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিলেন। পাট কিনতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগালের মধ্যে থেকেও তিনি মার্কিনিদের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করেছেন। কাস্ত্রো ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের একজন অকৃত্রিম বন্ধু, বিশেষ করে ছোট ও দুর্বল দেশের কাছে তিনি ছিলেন সেই সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতীক, যারা আধিপত্যবাদী শক্তিকে অগ্রাহ্য করে স্বাধীন সত্তা রক্ষা করতে চায়। বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক শিবিরের তিনি ছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। তার মৃত্যুতে পৃথিবী হারিয়েছে একজন মহান বিপ্লবীকে। বাংলাদেশ হারিয়েছে তার অকৃত্রিম বন্ধুকে, শোষিত-নিপীড়িত মানুষ হারিয়েছে তাদের একজন স্বজনকে। ফিদেল কাস্ত্রোকে জানাই অভিবাদন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ : লেখক ও গবেষক
সৈয়দ আবুল মকসুদ : লেখক ও গবেষক

No comments:
Post a Comment