জাপানের
প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তার ‘অগাধ আস্থা’ রয়েছে এবং তারা একটি আস্থার
সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের
ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেড়ঘণ্টার বৈঠককে জাপানি
প্রধানমন্ত্রী বর্ণনা করেছেন ‘উষ্ণ পরিবেশে খোলামেলা আলোচনা’ হিসেবে। গত ৮
নভেম্বর ভোটে অবিশ্বাস্যভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই ছিল কোনো
বিশ্বনেতার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম বৈঠক। বিবিসি। ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের
কিছু রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্রদের
সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলা যুক্তরাষ্ট্রই পরে জাপানের
অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়; অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
উদীয়মান শক্তি চীনের বিশাল সমরশক্তির মোকাবিলায় জাপান বহুলাংশে
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। ভোটের প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন,
নির্বাচিত হলে তিনি ট্রান্স-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করবেন।
অর্থনৈতিকভাবে প্রতিবেশী চীনের ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার বিষয়টি মাথায়
রেখে ওই চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছিলেন আবে। ট্রাম্প এলে চুক্তি বাতিল হতে পারে
জেনেও জাপানের পার্লামেন্ট তা অনুমোদন করেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প
বলেছিলেন, জাপানের মাটিতে মার্কিন সেনা রাখতে হলে টোকিওকে আরও বেশি অর্থ
দিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজেদের রক্ষায়
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত পরমাণু অস্ত্র বানানোর দিকে নজর দেয়।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর শিনজো আবে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি,
দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক না থাকলে ভবিষ্যতে এ বন্ধুত্ব অটুট থাকবে
না। আজকের আলোচনার পর আমি আÍবিশ্বাসী, ট্রাম্প এমন একজন নেতা, যার ওপর আমি
অগাধ আস্থা রাখতে পারি।’ বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- তা নিয়ে খুব বেশি
তথ্য আবে সাংবাদিকদের দেননি। তিনি বলেছেন, তারা আবারও বসতে সম্মত হয়েছেন
যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন
কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা নেয়ার আগে তার সঙ্গে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এ
সাক্ষাতকে ‘বিরল ঘটনা’ বলেছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন এনএইচকে।
ট্রাম্পের বৈঠকে ইভাঙ্কা : জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে ডোনাল্ড
ট্রাম্পের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প। কোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে
ট্রাম্পের এটি প্রথম বৈঠক। এতে ইভাঙ্কার উপস্থিতি মার্কিন প্রশাসনে তার বড়
প্রভাবের নমুনা বহন করছে বলে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি। বৃহস্পতিবার
নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেড়ঘণ্টার বৈঠক
করেন ট্রাম্প। ম্যানহাটনের গণমাধ্যমগুলোকে ওই বৈঠকের ছবি ধারণ করার অনুমতি
দেয়া হয়নি। তবে জাপান সরকার ওই বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
ছবিতে দেখা
যাচ্ছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন
মডেল থেকে ব্যবসায়িক হওয়া ট্রাম্পকন্যা ইভাঙ্কা। সেখানে তিনি ও তার স্বামী
আবাসন ব্যবসায়ী জারেদ কুশনার আবের সঙ্গে কথা বলছেন। ইভাঙ্কা ও জারেদ
কুশনার ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তবে রাজনৈতিক এ বৈঠকে
ইভাঙ্কার উপস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশাসনিক
পদে বসাতে চান ট্রাম্প। জাপানি পত্রিকাগুলো জানিয়েছে, ইভাঙ্কাকে টোকিওর
রাষ্ট্রদূত বানানোর চিন্তা করছেন ট্রাম্প। এজন্য জাপানি প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে এ বৈঠকে হাজির ছিলেন তিনি। নিগাতা পারফেকচার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর
ইউশিনোবু ইমামোতো বলেন, অনানুষ্ঠানিক হলেও রাজনৈতিক নেতার মধ্যে
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বিরল। এটা প্রমাণ করে,
ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে যাচ্ছেন ইভাঙ্কা। তিনি আরও বলেন,
এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ ইতিমধ্যে তিনি রাজনীতিতে পা রেখেছেন।
তবে এত অল্পসময়ের মধ্যে ইভাঙ্কার জাপানের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে
দিয়েছেন ইমামোতো।

No comments:
Post a Comment