![]() |
| ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারের এই রাজকীয় ভবনে বাস করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প -ডেইলি মেইল |
মার্কিন
প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ওঠার কথা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে সেখানকার স্থায়ী
বাসিন্দা হিসেবে থাকার ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এর বদলে ম্যানহাটনে
অবস্থিত নিজের বিশালাকার পেন্ট হাউসে থাকতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন
তিনি। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসে ওঠার আগে সেখানে বসবাসের ব্যাপারে উপদেষ্টাদের
কাছে তার এ অদ্ভুত ভাবনার কথাটি বলেছেন। এ ধনকুবের জানিয়েছেন,
প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যক্রমে অংশ নিতে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে থাকতে হলেও
তিনি তার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মায়া ত্যাগ
করতে পারবেন না। সেজন্য ট্রাম্প উপদেষ্টাদের কাছে পরামর্শও চেয়েছেন কীভাবে
কিছু সময় হোয়াইট হাউসে থাকা যায়, কিছু সময় তার ম্যানহাটনের পঞ্চম
অ্যাভিনিউর ট্রাম্প টাওয়ারের ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকা যায়।
তার উপদেষ্টারা
জানিয়েছেন, নির্বাচিত হওয়ার খবরে ট্রাম্প ‘স্তম্ভিত’ ছিলেন। তিনিও বিশ্বাস
করতে পারছিলেন না যে আসলে তিনি জিতে গেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তারপর
এখন উপদেষ্টাদের বলছেন কীভাবে সপ্তাহের দিনগুলো ভাগ করে হোয়াইট হাউস ও
ট্রাম্প টাওয়ারে থাকা যায়। ৫৮ তলাবিশিষ্ট আকাশচুম্বী ট্রাম্প টাওয়ারে এ
ধনকুবেরের অ্যাপার্টমেন্টটি গড়ে তোলা হয়েছে ২৪ ক্যারেট সোনা, মূল্যবান
বাহারি রকমের মার্বেলসহ অভিজাত সামগ্রী দিয়ে। এ অ্যাপার্টমেন্টের মোহে পড়ে
যাওয়া ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সিয়াল উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি যে জীবন
আগে থেকে যাপন করে আসছেন, এখনও তেমন করতে চান। সেজন্য হোয়াইট হাউসে কত রাত
অবস্থান করতে হবে সে ব্যাপারে একটি ফয়সালা যেন তাকে জানিয়ে দেয়া হয়।
উপদেষ্টারা প্রাথমিকভাবে তাকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বেশিরভাগ সময়ই হোয়াইট
হাউসে থাকতে হবে, যেমনটি অন্যদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। ট্রাম্প টাওয়ার বা
নিউজার্সির গল্ফ কোর্সসহ পছন্দ স্থানগুলোতে তিনি যেতে পারেন সপ্তাহান্তে
কিংবা অবকাশে। ধনকুবের প্রেসিডেন্ট এভাবে হোয়াইট হাউস-ট্রাম্প টাওয়ারে
‘দোলায়মান’ থাকলেও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে
শিগগির উঠে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ?অবশ্য, তাদের ১০ বছর বয়সী সন্তান
ব্যারন নিউইয়র্কের একটি স্কুলে অধ্যয়নের মাঝপথে থাকায় সেই ‘শিগগির’টা
স্পষ্ট করা যাচ্ছে না। আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প গত তিন দশক ধরে ট্রাম্প
টাওয়ারে বাস করছেন। নিজের বানানো ভবনের ৫৮ তলাতে রয়েছে তার রাজকীয় বাস।
এছাড়াও একই ভবনের ২৬ তলায় রয়েছে তার অফিস, যেখানে যাওয়ার জন্য তার রয়েছে
ব্যক্তিগত লিফট। শিকাগোতেও রয়েছে একই ধরনের ট্রাম্প টাওয়ার। ফোর্বসের
সমীক্ষা অনুযায়ী,
৩৭০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তির মালিক ডোনাল্ড
ট্রাম্প। ৫১৫টি কোম্পানির মালিক তিনি। এর মধ্যে ২৬৮টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
তার নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশে তার বহু ভবন, ১৫টি হোটেল এবং
গল্ফ কোর্স রয়েছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, ব্রাজিল ও
যুক্তরাজ্যে তার ব্যবসা রয়েছে। তুরস্ক, উরুগুয়ে, ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়ায়
রয়েছে তার হোটেল। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর তার ব্যবসায়িক
সাম্রাজ্য কীভাবে পরিচালিত হবে সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি তার পদের
প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নেবেন কিনা অথবা স্বার্থের সংঘাত দেখা দেবে
কিনা উঠছে সেই প্রশ্নও। তবে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের
আইনজীবী বলেছেন, তার ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন, যেটি
হোটেল, গল্ফ কোর্স এবং দেশে-বিদেশে বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তির মালিক,
সেটি একটি ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্টের’ মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই ‘ব্লাইন্ড
ট্রাস্টের’ ট্রাস্টি হবেন তার ছেলেমেয়েরা। তবে যেসব দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের
বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে সেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনও প্রভাব ফেলতে
পারবে কি না সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment