মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প এজন্য দোষারোপ করেছেন গণমাধ্যমকে। তিনি বলেছেন,
মিডিয়া তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‘উসকে’ দিচ্ছে। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো,
পোর্টল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি শহরে হাজারো প্রতিবাদকারী টানা দু’রাত ধরে
রাজপথে অবস্থান নিয়ে রেখেছে। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র
পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ট্রাম্প তার
বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ নিয়ে টুইটারে গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন। এক টুইটে
তিনি বলেন, ‘মাত্রই একটি অত্যন্ত উন্মুক্ত ও সফল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
সম্পন্ন হয়েছে। এখন পেশাদার বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করছেন, গণমাধ্যম তাদের
উসকে দিচ্ছে। খুবই অন্যায়।’ এ খবর দিয়েছে বৃটিশ অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
খবরে বলা হয়, এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় রাস্তায় নারী-পুরুষ
স্লোগান দিচ্ছেন, ‘তিনি আমার প্রেসিডেন্ট নন’। যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে,
ঢিল ছুঁড়ে ভেঙে দেয়া হচ্ছে জানালা, দাহ করা হচ্ছে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। এই বিক্ষোভকে ভালোভাবে নেননি প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট
ট্রাম্প। তিনি সরাসরি দোষারোপ করেছেন মিডিয়াকে। অবশ্য এর আগেও ট্রাম্প
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনের আগে বারবার তিনি
গণমাধ্যমকে অভিহিত করেছেন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কর্পোরেট মিডিয়া’ হিসেবে।
বলেছেন, এসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্পোরেট মিডিয়া হিলারিকে সুবিধা দিতে তার
বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। নির্বাচনের আগে বেশির ভাগ জনমত জরিপেই হিলারির পক্ষে
একচ্ছত্র সমর্থনের কথা বলা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাম্প অভিযোগ তুলেন,
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা হবে এবং তার পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল না
এলে তিনি তা না-ও মানতে পারেন। চার বছর আগে বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ট্রাম্প ছিলেন তার বিপক্ষে। বলেছিলেন, এটা
নির্বাচন নিয়ে প্রহসন। তিনি সবাইকে ওয়াশিংটনে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার
আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার তার বিরুদ্ধেই রাস্তায় নেমেছেন আমেরিকানরা।
পোর্টল্যান্ড ও অরিগনে বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পুলিশকে পিপার স্প্রে
ব্যবহার করতে হয়েছে। কয়েকশ মানুষ রাস্তায় স্লোগান দিয়েছে ‘আমরা
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্টকে প্রত্যাখ্যান করছি’। এর আগে বিক্ষোভকারী ছোট একটি দল
আশেপাশের দোকানে ভাঙচুর চালায়, ময়লার বিনে আগুন ধরিয়ে দেয়, গাড়িতে ঢিল
ছুঁড়ে জানালা ভেঙে দেয় এবং আতশবাজি ফোটাতে থাকে। শুক্রবার সকালেও বিক্ষোভ
চলতে থাকলে পুলিশ তাদের রাস্তা অবরোধ করা ছাড়তে বলে এবং দ্রুত রাজপথ ছাড়ার
নির্দেশনা দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের পক্ষ থেকে
বেশ কয়েকবার বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের প্রতি
বলপ্রয়োগ করে এবং কয়েকজনকে আটক করে। কলোরাডোর ডেনভারে বিক্ষোভকারীরা একটি
রাজপথ অবরোধ করে রাখে কিছু সময়ের জন্য। সান ফ্রান্সিসকোতে শিক্ষার্থীরা
শহরের কেন্দ্রীয় সড়কে ‘আমার প্রেসিডেন্ট নয়’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করে। এ
সময় তাদের হাতে ছিল ব্যানার ও প্লাকার্ড, যাতে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের
কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি ছিল।
বিক্ষোভকারীদের হাতে এলজিবিটি ব্যানার ও মেক্সিকোর পতাকাও ছিল। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৫ বছর বয়সী ক্লেয়ার বাই বলেন, একজন শ্বেতাঙ্গ হিসেবে আমাদের সব বর্ণের মানুষের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। আমি শ্যাম বর্ণের মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করছি, কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করছি। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ট্রাম্পের নিজস্ব ভবন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়। তাদের একজন বলেন, ‘আমাদের দেশ খারাপ একটি সময় পার করছে এবং সম্ভবত পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা একতাবদ্ধ থাকব এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাব। তাই বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।’ বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য মাইনপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মধ্যকার সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং ফিলাডেলফিয়ার সিটি হলের বাইরে মিছিল করে। এ ছাড়া লুইসভিল, কেনটাকি ও বাল্টিমোরেও কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ করে। শিকাগোর ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও ছিল বিক্ষোভকারীদের অবস্থান। ওকল্যান্ড, ডালাসের মতো শহরগুলোতেও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাস্তায় ছিল শত শত মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতেও এসব বিক্ষোভ চলমান থাকবে এবং অন্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে এই বিক্ষোভ। এখন পর্যন্ত ডেমোক্রেট অধ্যুষিত শহর বা এলাকাগুলোতেই ট্রাম্পবিরোধী এই বিক্ষোভ চলছে। তবে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি বলে স্বীকৃত এলাকাতেও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের হাতে এলজিবিটি ব্যানার ও মেক্সিকোর পতাকাও ছিল। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৫ বছর বয়সী ক্লেয়ার বাই বলেন, একজন শ্বেতাঙ্গ হিসেবে আমাদের সব বর্ণের মানুষের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। আমি শ্যাম বর্ণের মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করছি, কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করছি। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ট্রাম্পের নিজস্ব ভবন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়। তাদের একজন বলেন, ‘আমাদের দেশ খারাপ একটি সময় পার করছে এবং সম্ভবত পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা একতাবদ্ধ থাকব এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাব। তাই বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।’ বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য মাইনপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মধ্যকার সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং ফিলাডেলফিয়ার সিটি হলের বাইরে মিছিল করে। এ ছাড়া লুইসভিল, কেনটাকি ও বাল্টিমোরেও কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ করে। শিকাগোর ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও ছিল বিক্ষোভকারীদের অবস্থান। ওকল্যান্ড, ডালাসের মতো শহরগুলোতেও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাস্তায় ছিল শত শত মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতেও এসব বিক্ষোভ চলমান থাকবে এবং অন্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে এই বিক্ষোভ। এখন পর্যন্ত ডেমোক্রেট অধ্যুষিত শহর বা এলাকাগুলোতেই ট্রাম্পবিরোধী এই বিক্ষোভ চলছে। তবে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি বলে স্বীকৃত এলাকাতেও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment