Saturday, November 19, 2016

সাড়ে তিন বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা গচ্চা

সরকার দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ কিনে গত সাড়ে তিন বছরে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গড়ে ১৪ লাখ ২৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সাত টাকা করে বেশি দাম দেয়ায় বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি আরও কিছু বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের এ হিসাব ধরা পড়ে।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি টেন্ডার ছাড়া বিদ্যুৎ কেনার বিপক্ষে। কারণ এ ধরনের কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের পরিপন্থী। তিনি বলেন, সরকার একটি যুক্তি দেখাতে পারে, টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনা হলে সময় লাগত। আর দ্রুত বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কারণেই টেন্ডার ছাড়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই যুক্তি খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর ফলে দেশের বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, একবার ফিলিপাইনে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে দেশটির ওই উদ্যোগ ছিল বড় পাওয়ার প্লান্টের ক্ষেত্রে। কিন্তু টেন্ডার ছাড়া বিশ্বের কোথাও কুইক রেন্টালের কাজ দেয়া হয়েছে, বলে আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, আগে টেন্ডার ছাড়া যাদের কাজ দেয়া হয়েছিল, তাদের ব্যাপারে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জানা গেছে, ২০১০ সালে ১৩টি কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের অনুমোদন দেয়া হয়। এদের কাছ থেকে বিনাটেন্ডারে গড়ে ১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা দামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১২ সালের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, এই দামে কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮শ’ থেকে ১৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেয়া হয়। সে হিসাবে গত সাড়ে ৩ বছরে গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ২৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হয়। (১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ১ ঘণ্টা ব্যবহার হলে তা ১ ইউনিট হিসাবে ধরা হয়।) এর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সরকারকে সাত টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। টাকার হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রস্তাব করে গড়ে আট টাকা ২০ পয়সা। যেসব কোম্পানি এতদিন সাড়ে ১৬ টাকা ইউনিট হিসাবে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে তারা এখন ৮ টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারও ইউনিটপ্রতি আট টাকা ২০ পয়সা হিসাবে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ইউনিটপ্রতি সাশ্রয় হবে গড়ে সাত টাকার বেশি। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বেসরকারি খাতে ১০০ মেগাওয়াটের ৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। রংপুর, ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট, বগুড়া, চাঁদপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলে এসব কেন্দ্র হবে। কনফিডেন্স সিমেন্ট ২টি, এনার্জিপ্যাক, ডরিন পাওয়ার এবং এক্সসিএল-ইপিসিএল ১টি করে। তাদের দেয়া দর প্রস্তাব থেকেই প্রায় অর্ধেক দামের এ তথ্য জানা গেছে। এই প্রস্তাব দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা। বিদ্যুৎ সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, টেন্ডার ছাড়া বিদ্যুৎ কেনায় এতদিন সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা গেছে। একদিকে এসব রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা শুল্কমুক্ত তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছেন, অন্যদিকে হ্যান্ডলিংয়ের নামে ৯ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। এভাবে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেছেন, অন্যদিকে বেশি দামে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে, বিনা টেন্ডারে দেয়া সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্রয়মূল্য পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সরকার ওই চুক্তিগুলো বাতিল করতে পারে। একই সঙ্গে যেসব রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেগুলো নবায়ন না করাই হবে যথাযথ সিদ্ধান্ত। পিডিবি’র একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ১০৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক (তেল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ১৮টি আর বেসরকারি ২৭টি।
বেসরকারি ২৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকই টেন্ডার ছাড়া বিশেষ আইনে স্থাপন করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়। সেগুলো উৎপাদনে আসা শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। মূলত এসব কেন্দ্র থেকেই বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের বক্তব্য, ২০১২ সালে যখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন শুরু করে তখন জ্বালানি তেলের (ফার্নেস অয়েল) দাম ছিল প্রতি লিটার ৬১ টাকা। এখন সেই তেল কমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেই হিসাবে সরকার টেন্ডার ছাড়া যে দামে বিদ্যুৎ কিনেছে তা সঠিক ছিল। আর তেলের মূল্য কমায় এখন যে দাম দেয়া হয়েছে তাও ঠিক আছে। এছাড়া ওই সময় দেশে ভয়াবহ বিদ্যুতের সংকট ছিল। ওই অবস্থায় বেসরকারি খাতের মালিকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আমদানি করে। বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার টেন্ডার ছাড়া তেলভিত্তিক ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি পেলেও এখনও উৎপাদনে যেতে পারেনি। তারা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি পেয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ওই কেন্দ্র থেকে আগামী বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি যে ৬টি কোম্পানিকে ১০০ মেগাওয়াট করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারাও আগামী বছর উৎপাদনে আসবে। এ অবস্থায় একই ধরনের দুটি কোম্পানির বিদ্যুৎ বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দামের ব্যবধান দাঁড়াবে ৬ টাকা ৭০ পয়সা, যা নিয়ে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে বলে জানা গেছে।
এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে ইউনাইটেড গ্রুপের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দর পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ইউনাইটেড পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, আনোয়ারায় তারা যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছে, সেটি অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব। তেল খরচও কম। সে হিসাবে দর বেশি হয়নি। পিডিবি সূত্র জানায়, গত বছর সরকার সিদ্ধান্ত নেয় দেশের ১০ জেলায় প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট করে এক হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এলাকাগুলো হল চাঁদপুর, নোয়াখালী, বাগেরহাট, বগুড়া, জামালপুর, ফেনী, মেঘনাঘাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও শান্তাহার। ৯ আগস্ট এজন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে দেশী-বিদেশী ৩১টি কোম্পানি প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। এই ৩১টি কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল দর খোলা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কোম্পানিগুলোর দর দেখে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে কোম্পানি এর আগে বেশি দামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করত তারাই এখন একই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির দর দিয়েছে অর্ধেকেরও কম। তিনি আরও বলেন, পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে সর্বনিম্ন দর দেখে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, পরবর্তীতে তারা দেখতে পান সব কোম্পানিই প্রায় একই দর দিয়েছে। পিডিবির পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, দেশে যখন প্রতিদিন গড়ে ৮/৯ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো তখন সরকার দ্রুত সংকট দূর করতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে এখন যে দর পাওয়া গেছে তেলের দাম হিসাব করলে আগের দরের সঙ্গে তফাত হবে না। তাই ৭ টাকা করে গচ্চা গেছে এটা বলা ঠিক হবে না।
কারণ তখন ডিজেলের দাম বেশি ছিল। এখন আগের তুলনায় তেলের দাম অর্ধেকে নেমে গেছে। আর একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিচালনায় তিন ভাগের দুই ভাগ জ্বালানি তেলে খরচ হয়। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায়, রংপুর সাইটে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। তারা দর দিয়েছে ১০.৪৩৪ সেন্ট অর্থাৎ ৮ টাকা ২০ পয়সা (ডলারের দাম ৭৮.৬৬ টাকা হিসাবে)। এছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনার্জিপ্যাকের দর ১০.৫২ সেন্ট, লেকথানভি ১০.৬১ সেন্ট, মোশাররফ পাওয়ার ১০.৬৯ সেন্ট। চাঁদপুর অঞ্চলের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে ডরিন পাওয়ার। তারা দর দিয়েছে ১০.০৮ সেন্ট। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রিসিশান পাওয়ার ১০.২৮ সেন্ট, সামিট কর্পোরেশন পাওয়ার ১০.৩৩ সেন্ট, রিজেন্ট পাওয়ার ১০.৩৪ সেন্ট, অ্যাক্রন পাওয়ার ১০.৪৯ সেন্ট। চৌমুহনী (নোয়াখালী) অঞ্চলের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে এনার্জি প্রিমা। তাদের দর ১০.৬৯ সেন্ট। তার নিকটতম দর দিয়েছে ম্যাক্স পাওয়ার ১০.৭৮ সেন্ট। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে এনার্জিপ্যাক। তাদের দর ১০.৪৪ সেন্ট। তাদের নিকটতম দর দিয়েছে ম্যাকস পাওয়ার ১০.৭৬ সেন্ট। আর বাগেরহাট অঞ্চলের জন্য সর্বনিম্ন দর দিয়েছে এক্সসিএল-ইপিসিএল। তাদের দর ৯.৯০ সেন্ট। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ারের দর ছিল ১১.১৯ সেন্ট, অ্যাক্রনের ১০.৪৯ সেন্ট, ডরিন পাওয়ারের ৯.৯৮ সেন্ট, মোশাররফ পাওয়ার ১০.২৮ সেন্ট, বারাকা পাওয়ার ১০.২৮ সেন্ট, পাওয়ারপ্যাক ১১.৪৩ সেন্ট, সামিট কর্পোরেশন পাওয়ার ১০.৩০ সেন্ট। এছাড়া বগুড়া অঞ্চলের জন্য সর্বনিু দরদাতা হয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। তাদের দর ১০.৪৮ সেন্ট। তার নিকটতম দর ছিল মিডল্যান্ড পাওয়ারের- ১০.৫১ সেন্ট। পিডিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অপর দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০১৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার রিপোর্ট অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নর্দার্ন পাওয়ার পিডিবির কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে ১৮.৪৩ টাকা। পাওয়ারপ্যাক বিক্রি করেছে ১৪.৯৫ টাকা, আমনুরা সিনহা পাওয়ার বিক্রি করেছে ১৮.৭৫ টাকা, এনজিস পাওয়ার ১৬.৫০ টাকা, আইইএল কনসোর্টিয়াম ১৫.৭৫ টাকা, সামিট পাওয়ার ১২.৪৩ টাকা।
এই হিসাবে দেখা গেছে আগের চেয়ে বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির দর গড়ে কমেছে ৭ টাকা। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, রেন্টাল-কুইক রেন্টাল (আইপিপি) হিসাবে খ্যাত এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা শুধু বিদ্যুৎ বিক্রিতে সরকারকে লোকসানে ফেলেনি, তেল আমদানি নিয়েও করেছে লুটপাট। আগে কয়েকটি বড় কোম্পানির হাতে তেল আমদানির সুযোগ থাকলেও এখন শুল্কমুক্ত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক। একই সঙ্গে তারা হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৯ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জের অর্থ পাচ্ছেন। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানির জন্য বর্তমান আইন সংশোধনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত জ্বালানি অন্য কোথাও ব্যবহার, বিক্রি বা পাচার হচ্ছে কিনা তা মনিটরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে এ খাতে ব্যাপক লুটপাটের আশংকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে তেল এনে তা কালোবাজারে বিক্রি করতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর থেকেও লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতে পারে কোটি কোটি টাকার তেল।

No comments:

Post a Comment