কেউ
বলেন অভিশাপ, কেউ দুর্ভাগ্য। কারণ যাই হোক, সান সেবাস্তিয়ানের ভূত এবারও
তাড়াতে পারল না বার্সেলোনা। রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে নয় বছর ধরে জিততে না
পারার লজ্জার রেকর্ড অক্ষুন্ন রেখেই ফিরল ছন্নছাড়া কাতালানরা। ২০০৭ সালের
পর সান সেবাস্তিয়ানে টানা আট ম্যাচে জয়হীন মেসিরা। এই মাঠে টানা পঞ্চম হার
এড়াতে পারাই এবার তাদের একমাত্র সাফল্য। রোববার ভাগ্যের জোরে সোসিয়েদাদের
সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করতে পেরেছে বার্সা। ঘরের মাঠে সোসিয়েদাদ যতটা ভালো
খেলেছে ততটাই খারাপ খেলেছে বার্সা। মেসির সমতাসূচক গোলটিই পুরো ম্যাচে
বার্সার একমাত্র উজ্জ্বল মুহূর্ত।
তাতে এক পয়েন্ট মিললেও টানা দুই ড্রয়ে
স্প্যানিশ লীগের শিরোপা রেসে অনেক পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয়
স্থানে থাকা কাতালানরা। মাত্র ১৩ ম্যাচ শেষেই বার্সার চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে
রিয়াল মাদ্রিদ! পরের ম্যাচটাই আবার এল ক্লাসিকো। আগামী শনিবার
ন্যুক্যাম্পে রিয়ালের কাছে হারলে শিরোপা ধরে রাখার আশা কার্যত শেষ হয়ে যাবে
বার্সার। সোসিয়েদাদের মাঠে বার্সা কতটা খারাপ খেলেছে তা ধারণারও অতীত।
নেইমারের ক্ষিপ্রতা, সুয়ারেজের দুর্দান্ত ফিনিশিং, টিকিটাকার জাদু- এর
কিছুরই দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির ক্ষণিকের ঝলকে শুধু মান বেঁচেছে।
বার্সার পারফরম্যান্স এমনই জঘন্য ছিল যে, এক পয়েন্ট পাওয়াটাই কোচ লুইস
এনরিকের কাছে অলৌকিক ব্যাপার মনে হচ্ছে! বার্সার কোচ হিসেবে দলের এমন বেহাল
দশা আগে কখনোই দেখেননি এনরিকে। ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে আত্মসমালোচনা করে
বলেছেন, ‘এভাবে যদি আমরা খেলি, শিরোপা জেতার কোনো আশাই নেই।’ অকল্পনীয়ভাবে
পুরো ম্যাচে বার্সাকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে সোসিয়েদাদ।
এনরিকেও মানছেন জয়
প্রাপ্য ছিল সোসিয়েদাদের। শুধু বলের দখলে পিছিয়ে থাকা নয়, প্রথমার্ধে
স্বাগতিকদের গোলমুখে একটাও শট নিতে পারেনি বার্সা! পুরো ম্যাচে বার্সার
মাত্র দুটি শটের বিপরীতে সোসিয়েদাদ নিয়েছে ১৭টি শট। ৫৩ মিনিটে উইলিয়ান
হোসের গোলে এগিয়েও যায় স্বাগতিকরা। ছয় মিনিট পর নেইমারের পাস থেকে বার্সাকে
সমতায় ফেরান মেসি। কিন্তু ভাগ্যদেবী সহায় না হলে তাতেও শেষরক্ষা হতো না
স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ানদের। দ্বিতীয়ার্ধে সোসিয়েদাদের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড
কার্লোস ভেলার দুটি শট পোস্টে প্রতিহত হয়। এখানেই শেষ নয়। শেষ দিকে
সোসিয়েদাদের একটি বৈধ গোল ভুল অফসাইড ধরে বাতিল করে দেন রেফারি। তাতে
জয়বঞ্চিত হলেও পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এসেছে সোসিয়েদাদ। একই দিনে
ওসাসুনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চারে উঠে এসেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ওয়েবসাইট।

No comments:
Post a Comment