Tuesday, November 29, 2016

ভারতে নোট বাতিলের প্রতিবাদে ‘আক্রোশ দিবস’ পালিত

ভারতে নোট বাতিলের প্রতিবাদে কংগ্রেস দলের ‘জনআক্রোশ দিবসে’
পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোমবার নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা হাতে
বিক্ষোভে অংশ নেন দলটির নেতাকর্মীরা (বাঁয়ে) এবং
তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ -এএফপি
ভারতে ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট বাতিলের প্রতিবাদে সোমবার প্রায় ১০টি বিরোধী দল ‘আক্রোশ দিবস’ পালন করেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, যেভাবে নোট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি সরকার যেভাবে পরিচালনা করেছে তাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির প্রায় ১৭টি বামদল ‘ভারত বনধ্’ পালন করেছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার এ বনধ্ পালিত হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। নোট বাতিলের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ডাকা আক্রোশ দিবসে সমর্থন দিয়ে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। তাদের কর্মসূচি মিটিং-মিছিল-বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ। শুধু বামেরাই ভারত বনধ্রে ডাক দিয়েছে। তবে বামদের এ বনধ্কে সমর্থন করেনি কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। নোট নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে বনধ্ কোনো সমাধান নয় বলে কংগ্রেস হাইকমান্ড আগে ভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিবাদের ভাষা যা হোক না কেন, তিনি বনধ্কে সমর্থন করেন না।
তবে আক্রোশ দিবসকে সমর্থন করেছেন তিনি। সোমবার দুপুরে কলকাতায় মমতার নেতৃত্বে কলেজ স্কয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত পদযাত্রা করে তৃণমূল। মিছিলে হাঁটতে হাঁটতেই হ্যান্ড মাইক নিয়ে নোট বাতিলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন মমতা। ধর্মতলায় পৌঁছে মোদিকে আক্রমণ করেন মমতা। মোদি বিশ্বনেতা হতে চান বলে কটাক্ষ করেন তিনি। মমতা বলেন, কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ ডিমানটাইজেশন (নোট বাতিল) হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গ, ব্যাঙ্গালোর, লাক্ষ্মৌ, কেরাল ও ত্রিপুরাতেও আক্রোশ দিবস পালিত হয়েছে। তবে বিহার ও উড়িষ্যায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়নি। রাজ্য দুটির মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি দমনে মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও ত্রিপুরা রাজ্যে বনধ্ পালন করেছে বামেরা। পশ্চিমবাংলায় এ বনধ্ েতেমন কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। বনধ্ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের তরফে নেয়া হয় কড়া ব্যবস্থা। রাস্তায় নামানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। জনবহুল এলাকায় বসানো হয় পুলিশ পিকেট। ফলে রাজ্যটির বিভিন্ন জেলার ছবিটা মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। সরকারি ও বেসরকারি যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিনের মতোই রাস্তায় বেরিয়েছে সাধারণ মানুষ। জেলার হলদিয়া, ব্যারাকপুর, হুগলির মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতেও কাজকর্ম চলেছে স্বাভাবিক।

No comments:

Post a Comment