দেনার
টাকা জোগাতে মাকে জবাই করে হত্যা করল পাষণ্ড ছেলে। পল্লবীর নিজ বাসায় মা
শরিফুন্নেছাকে জবাইয়ের ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ছেলে রফিকুল ইসলাম
বাবু (৪৫)। নিজের পরিকল্পনায় দুই সহযোগী নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মাকে। এ
হত্যার ঘটনায় বাবুর সহযোগী জাহিদকে বুধবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার
জবানবন্দিতেই ছেলে বাবুর হাতে মা জবাইয়ের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় জাহিদ। এরপর
বৃহস্পতিবার বাবু ও তার আরেক সহযোগী ছোটবেলার বন্ধু শওকত আলীকে (৪৬)
গ্রেফতার করে পল্লবী থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পল্লবী
থানার এসআই ফারুকুজ্জামান মল্লিক সোমবার যুগান্তরকে জানান, শরিফুন্নেছা
হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। বাবু দুই সহযোগী নিয়ে তার মাকে জবাই করে।
গ্রেফতার হওয়া এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যার জট খুলেছে।
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই দ্রুত হত্যায় জড়িত তিনজনকে অভিযুক্ত করে
আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করা হবে। ১৬ নভেম্বর রাতে মিরপুরের পল্লবী থানার
১০ নম্বর সেকশনের এ-ব্লকের ৪৪ নম্বর বাসায় এ হতাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ
হত্যার ঘটনায় ওইদিন রাতেই জড়িত সন্দেহে বাসার দারোয়ানকে আটক করা হয়। মামলার
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, হত্যার পর নিহতের ছেলের গতিবিধি
সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। সে নিজেই অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে থানায় মামলা
করে। মায়ের হত্যায় কোনো সন্দেহভাজন নেই উল্লেখ করে মামলাটি তদন্ত না করতেও
তদবির করে।
বাবুর স্ত্রীর ভাই জাহিদ আত্মপোপন করায় তাকে সন্দেহ হয়। পরে
সোর্স লাগিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদ আদালতে এ হত্যার বর্ণনা দেয়।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুন্নেছার স্বামী সাবেক
সেনাবাহিনীর হাবিলদার মহব্বত আলী ২৫ বছর আগে মারা যান। তার তিন ছেলে ও দুই
মেয়ে। দুই ছেলে বিদেশে থাকায় বাবুর সঙ্গেই পল্লবীর বাসায় থাকতেন এই বৃদ্ধা।
তার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা ছিল। অন্যদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচের জন্য
মায়ের কাছে টাকা চায় বাবু। মা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। জানা
গেছে, বিয়ের দশ বছরের মধ্যে সন্তান না হওয়ায় বাবু তার স্ত্রী লকেটকে নিয়ে
ভারতে চিকিৎসা করায়। চিকিৎসকদের পরামর্শে টেস্টটিউব বেবি নেয় এই দম্পতি।
এতে খরচ হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। চিকিৎসার টাকা জোগাতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির
কাছে কয়েক লাখ টাকা দেনা হয় বাবুর। তাই মায়ের অ্যাকাউন্টে রাখা টাকা চেয়েও
না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়। জাহিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা
গেছে, ১২ নভেম্বর লালমাটিয়ার সিটি হাসপাতালে একটি মেয়ে জন্ম দেয় বাবুর
স্ত্রী লকেট। হাসপাতালে দেখা হয় স্ত্রীর বড় ভাই জাহিদের সঙ্গে। রাতে
জাহিদকে বাসায় আসতে বলে বাবু। হাসপাতাল থেকে রাত ১০টায় বাসায় ফিরে বাসার
ভাড়াটিয়া ছোটবেলার বন্ধু শওকতকে নিয়ে তিনতলায় ওঠে। কথামতো, রাত সাড়ে ১১টার
দিকে বাসায় আসে জাহিদ। তারপরই উত্তেজিত হয়ে মাকে প্রথমে গলায় ধাক্কা দিয়ে
মেঝেতে ফেলে দেয়। মা পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর বাবু হত্যা করতে বলে।
তখন জাহিদ দুই পা চেপে ধরে। এরপর প্রথমে শওকত এবং পরে বাবু নিজেই মায়ের
গলায় ছুরি চালায়। পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির যুগান্তরকে বলেন, হত্যার
ঘটনায় গ্রেফতার জাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যায়
জড়িত সন্দেহে বৃদ্ধার ছেলে বাবু ও তার বন্ধু শওকতকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের
চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওসি বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও
তাদের রিমান্ড শেষ হলেই এ মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment