অবিশ্বাস্য
জিনিস ততক্ষণ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য যতক্ষণ তা না ঘটে। যেমন রোম আক্রমণ, যাকে
ঐতিহাসিকভাবে অনিবার্য মনে করা হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন- এ খবর পুরো বিশ্বের জন্য রাজনৈতিক
ভূমিকম্প। ট্রাম্প তার প্রচারণায় যা বলে এসেছেন তাই যদি বাস্তবায়ন করেন,
তবে ত্রিশের দশক থেকে আমেরিকার যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি ছিল তার
নেতিবাচক উল্টো প্রভাব পড়া শুরু হবে। এটা প্রগতিশীল আমেরিকান ধারা ও
একবিংশ শতাব্দীর দিক বদলে দেবে। কমিউনিজমের পতন-পরবর্তী সময় ও চীনের
অর্থনৈতিক উত্থানকালের বৈশ্বিক উদারনৈতিক আর্থ-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভাঙন
দেখা দেবে। এ দিক দিয়ে ট্রাম্পের ট্রাম্পকার্ড প্রদর্শন আকস্মিক ঘটনা নয়।
শিল্পযুগ-পরবর্তী পশ্চিমা গণতন্ত্রে কট্টর ডানপন্থীদের যে উত্থান ঘটছে, এটা
তারই প্রতিধ্বনি। প্রগতিশীল ধারা এখন আর সাড়া পাচ্ছে না। ব্রিটেনের
ব্রেক্সিট গণভোট যেমন অপরিহার্য ও বাস্তব, ট্রাম্পের বিজয় তেমনই সমান্তরাল।
এখন ইউরোপজুড়েও উগ্র ডানপন্থীদের বিস্তার ঘটছে। ফ্রান্সের ম্যারিন লে
পেনের দ্রুত উত্থানও এমনই। নির্বাচনের এ ফল কেবল আমেরিকা নয়, বিশ্বের
উদারনীতির সমর্থকদের জন্য বিলাপের কারণ হলেও মস্কো ও দামেস্কর জন্য
উৎফুল্লের। লাটভিয়া বা ইউক্রেনের জন্য এ সপ্তাহ মোটেই শুভ নয়। বিশ্বজুড়ে
প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে মার্কিন নির্বাচনের
ফল।
প্রাথমিকভাবে এ বিপর্যয় আমেরিকার জন্য। আর আমেরিকা নিজেও এর জন্য দায়ী।
ট্রাম্পকে ঠেকানোর বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর উপায় বের করতে তারা ব্যর্থ
হয়েছে। হিলারি ক্লিনটন নিজের ব্যক্তিত্বে এবং তার নির্বাচনী ইশতেহার দুই
জায়গাতেই ব্যর্থ। ট্রাম্পকে সিরিয়াসভাবে আমলে নেয়া হয়নি। কেউই প্রত্যাশা
করেননি তার দীর্ঘ তিক্ত ও বিভেদমূলক প্রচারণা হিলারির ওপর বিজয়ী হবে।
ট্রাম্পের জয়ে প্রমাণিত হয়েছে, আমেরিকার বিপুল জনগোষ্ঠী প্রগতিশীল
রাজনীতিতে নিজেদের বঞ্চিত মনে করে এসেছে। গত একশ’ বছরের মধ্যে প্রথমবারের
মতো রিপাবলিকানরা হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটাল হিলের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেয়েছে।
এখন তারা বিচার বিভাগকে নিজেদের ইচ্ছামতো সাজাতে পারবে। জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ
সমতায় এর প্রভাব পড়বে। আমেরিকার সাংস্কৃতিক যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে। সবচেয়ে
বড় কথা, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কৌশলের
ওপর নির্ভরশীল। এখন আমেরিকার ভবিষ্যৎ নীতি-কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের সামরিক-কূটনৈতিক পদক্ষেপ, নিরাপত্তা-পরিবেশ-বাণিজ্য নীতি পুরো
বিশ্বের জন্য অশুভ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ সপ্তাহে আমেরিকানরা অত্যন্ত
বিপজ্জনক কাজ করে ফেলেছে। কারণ তারা বিশ্ববাসীর মুখে কালো ও ভীতির চিহ্ন
এঁকে দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment