Tuesday, November 29, 2016

ফ্রান্সে আরেক ‘থ্যাচারের’ উত্থান

ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন স্টাইলে প্রার্থী বাছাই ভোটাভুটিতে ফিলোঁ জয়ী হয়েছেন। তাকে বলা হচ্ছে ‘ফরাসি মার্গারেট থ্যাচার’। স্থানীয় পত্রিকা লিবারেটস তাদের সর্বশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে ফিলোঁর ছবিতে থ্যাচারের মুখাবয়ব জুড়ে দিয়েছে। আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনএনের। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌঁড়ে ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেইন জুপেকে পরাজিত করেন। মনোনয়ন দৌঁড়ের ভোটাভুটিতে প্রথমেই ছিটকে যান সারকোজি, এরপর এগিয়ে থাকা দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী জুপে ও ফিলোঁর মধ্যে রান-অফ দ্বিতীয় দফা ভোটাভুটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার রান-অফের প্রায় সব ভোট গণনার পর ফিলোঁ প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী জুপে পরাজয় মেনে নিয়েছেন।
প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর আরও উন্নত সমাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডানপন্থী ফিলোঁ। তিনি বলেছেন, ‘যদি ফ্রান্সের লোকজন আমার ওপর ভরসা রাখে, আমি আমার দায়িত্বকে শ্রদ্ধা করতে সচেষ্ট থাকব এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজেকে পরিচালনা করব।’ ফ্রান্সকে ‘পুরোপুরি পরিবর্তন’ করে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে সোস্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী এবং উগ্র-ডানপন্থী প্রার্থী ম্যারিন লি পেনের মোকাবিলা করতে হবে ফিলোঁকে। প্রার্থিতার দৌড়ে হেরে যাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত মডারেট প্রার্থী জুপে স্বাগত জানিয়েছেন ফিলোঁকে। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রার্থী ফিলোঁকে জেতাতে তার পক্ষে কাজ করবেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌঁড়ের প্রথম ভোটাভুটিতে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফিলোঁ। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, পরবর্তী রাউন্ডে তিনিই জিততে যাচ্ছেন। প্রথম রাউন্ডেই সারকোজি বাদ পড়ে যান। ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের নেতৃত্বাধীন সমাজতন্ত্রীদের জনপ্রিয়তা কমেছে। তারা বিভক্ত। তাই কোনো বামপন্থী প্রার্থী আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট বাছাইপর্বের প্রথম রাউন্ডই উতরাতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর ধারণা করা হচ্ছে ফ্রান্সেও কট্টর জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় আসবে। সেক্ষেত্রে কট্টর ডানপন্থী মেরিন লি পেনের দল আশার আলো দেখছে। মেরিন লি পেন একটি গণভোটের আয়োজন করে ফ্রান্সকে ইউরো অঞ্চল থেকে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কে এই ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ
৬২ বছর বয়সী ফিলোঁ পেশাগতভাবে একজন আইনজীবী। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি মূলত একজন ক্যাথলিক রাজনীতিক। স্ত্রী পেনেলপ ও পাঁচ সন্তান নিয়ে দ্বাদশ শতাব্দির একটি ক্যাসলে বসবাস করেন। একমাস আগেও ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ প্রেসিডেন্সির জন্য লড়বেন কিনা তা নিশ্চিত ছিল না। কয়েকটি টেলিভিশন বিতর্কে নৈপুণ্য দেখানোর পর তার প্রতি জনসমর্থন বেড়ে যায়। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ও ‘ইসলামি’ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ওলান্দ সরকারের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচক ছিলেন ফিলোঁ। তিনি এ বিষয়ে ‘বিটিং ইসলামিক টোটালিটারিয়ানিজম’ নামে একটি বইও লিখেছেন। এ বই প্রকাশের পর ফরাসিদের কাছে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রার্থিতা নিশ্চিতের পর এক বক্তৃতায় ফিলোঁ বলেন, বিগত প্রেসিডেন্টর মেয়াদকাল ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এখন সময় এসেছে এ কালের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন পদক্ষেপে যাত্রা শুরু করা। আমরা এমন কিছু করব, যা গত ৩০ বছরে ঘটেনি। আর এর জন্য আপনাদের সবার সমর্থন প্রয়োজন।’ ফিলোঁ প্রেসিডেন্ট হলে সরকারের ৫ লাখ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে অন্তত ১০৬ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমে যাবে। গর্ভপাত ও সমকামী বিয়ের মতো ইস্যুগুলোতে ফিলোঁ ঐতিহ্যপন্থী।

No comments:

Post a Comment