**গত কয়েক দিনের মতো বুধবারও সকাল থেকেই নোট বাতিল বিতর্কে অচল হয় ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। তাতে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়**
ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল ও নোট বদলে জনগণের ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে সংসদের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিরোধী দলীয় নেতারা। বিরোধী দলীয় অন্তত ২০০ জন নেতা গান্ধীমূর্তির সামনে এক লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে দুই দিকই গরম রেখেছেন সরকারবিরোধীরা। এই ইস্যুতে আগামী সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিনের মতো বুধবারও সকাল থেকেই নোট বাতিল বিতর্কে অচল হয় ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। তাতে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়। আজ (বৃহস্পতিবার) মোদি রাজ্যসভায় যোগ দেবেন। বিজেপি সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চায় তৃণমূল এবং আম আদমি পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো।
এর আগেও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং এএপি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরোধিতা করে পথে নেমেছিলেন। তবে এবারের আন্দোলন আরও জোরালো হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন তারা। নয়াদিল্লিতে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী, শরদ যাদবের মতো হেভিওয়েট নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস, তৃণমূল, আম আদমি পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা ওই সমাবেশে যোগ দেন। শেষ মুহূর্তে ধর্নায় যোগ দেয় এআইডিএমকে। আনন্দবাজার জানিয়েছে, ১৫টি রাজনৈতিক দল গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্নায় (প্রতিবাদ সমাবেশ) যোগ দেয়। একমঞ্চে প্রায় সব দলের একযোগে ধর্না যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লাগাতার আন্দোলন জারি রাখতে আগামীকাল বিকেলে বিরোধী নেতারা আলোচনায় বসবেন। এরই মধ্যে আগামী সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। এদিকে, নোট বাতিলের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতে কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয় জনগণ। এই ইস্যুতে বুধবার মমতার ফের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে। বাতিল ২০০০ কোটি নোট দিয়ে কী করবে ভারত? কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়ার অংশ হিসেবে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেছে ভারত সরকার। পুরনো নোট বদলের জন্য ব্যাংকের লাইনে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। নতুন নোট তুলতে ছুটে যাচ্ছেন এটিএম বুথে। দুই নোট নিষিদ্ধের পর বাতিল হওয়া অন্তত ২০ বিলিয়ন নোট জমা হবে সরকারের কাছে। এই বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট দিয়ে কী করবেন কর্তৃপক্ষ? ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৯০২৬.৬ কোটি নোট দেশের বাজারে ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২০৩ কোটি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। ৮ নভেম্বর সরকার ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণার পরই অচল হয়ে গেছে এই ২২০৩ কোটি নোট। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্তত ২০ বিলিয়ন (২০০০ কোটি) নোট ধ্বংস করতে হবে। রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, বাতিল ৫০০ ও ১০০০ হাজার নোটগুলোকে কারেন্সি ভেরিফিকেশন অ্যান্ড প্রসেসিং সিস্টেম (সিপিভিএস) পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে দেখে নেয়া হয় নোটগুলো আসল না নকল। ২০০৩-এ সিপিভিএস পদ্ধতি চালু করেন তৎকালীন আরবিআই গভর্নর বিমল জালান। আরবিআই জানায়, আসল নোটগুলোকে রিসাইক্লিং করে নতুন নোট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আর সিপিভিএস পদ্ধতিতে পরীক্ষা করার পর যে সব জাল নোট বেরিয়েছে, সেগুলো রিসাইক্লিং করে পেপারওয়েট, ক্যালেন্ডার বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।
২০০১ পর্যন্ত ছেঁড়া ও বাতিল হয়ে যাওয়া নোটগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে আরবিআই সেগুলো পুড়িয়ে ফেলত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন বাতিল হওয়া সব নোট ধ্বংস করা হবে। দুই হাজার কোটি নোট ধ্বংস করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে না বলেও জানিয়েছেন তারা। কর্তৃপক্ষর মতে, ভারতজুড়ে ১৯টি অফিসে নোট টুকরো করার অন্তত ২৭টি মেশিন রয়েছে। বাতিল হয়ে যাওয়া নোট যন্ত্রের সাহায্যে কেটে টুকরো টুকরো করা হবে এবং পরে মেশিনের সাহায্যেই মণ্ড আকারে তৈরি করা হবে। এরপর হয়তো ব্লকের মতো করে তৈরি করে সেগুলো ডাম্প করা হবে বিস্তীর্ণ ভূমিতে। আবার অনেক সময় টুকরো করা অংশগুলো প্রক্রিয়াজাত করে ক্যালেন্ডার কিংবা পেপারওয়েটের মতো নানা সামগ্রীও তৈরি করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত অর্থবছরে ১৬০০ কোটি নোট ধ্বংস করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টি তাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন তারা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড অচল ও বাতিল নোটগুলোকে পুড়িয়ে ফেলত। কিন্তু পরে কম্পোস্?ড ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে নোটগুলোর প্রক্রিয়াকরণ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল ব্যাংক বাতিল হওয়া নোটগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে সেগুলো সু্যুভেনির হিসেবে বিক্রি করে। এ ছাড়া বিভিন্ন শৈল্পিক কাজেও নোটের টুকরোগুলোকে ব্যবহার করা হয়।

No comments:
Post a Comment