উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। নিজের অনবদ্য সৃষ্টি মিসির আলী ও হিমু চরিত্র দুটিই তার মধ্যে বিদ্যমান। কথায় আছে লেখকরা নাকি নিজেদের সফলতা দেখে যেতে পারেন না। কথার এই জাদুকরের বেলায় কথাটি একেবারেই বেমানান। জীবিত অবস্থায় নিজের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা উপভোগ করে গেছেন তিনি। আজ এ লেখকের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী। বিশেষ এ দিনে সশরীরে নেই তিনি। কিন্তু নিজের সৃষ্টির মধ্যে অমর হয়ে আছেন। শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাই হুমায়ূন আহমেদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পেয়েছেন ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। তাই প্রিয় মানুষটির জন্মদিনে স্মৃতি ও অনুভূতির জানালা খুলে দিয়েছেন শোবিজের কয়েকজন তারকা। লিখেছেন-অনিন্দ্য মামুন
**জাহিদ হাসান অভিনেতা**
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর মঞ্চ নাটকে কাজ শুরু করি। মঞ্চে ‘বিচ্ছু’ নাটকে অভিনয় করে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের চোখে পড়ে যাই। এরপর আমাকে নিয়ে স্যার ‘আজ রবিবার’ নাটক তৈরি করেন। এতে আনিস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পাই। এরপর তার নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনেতা হয়ে যাই। ‘সবুজ সাথী’ নাটকে লাঠিধরা পাগলা মফিজের চরিত্র, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে গাতক মতি, ‘আমার আছে জল’ ছবিতে জামিলসহ হুমায়ূন আহমেদের তৈরি করা অসংখ্য মজার মজার চরিত্রে কাজ করেছি। নিজেকে ধন্য মনে করি যে হুমায়ূন আহমেদের মতো এমন একজন কিংবদন্তি মানুষের সংস্পর্শে গিয়ে কাজ করেছি। এমন ভাগ্য অনেক অভিনয় শিল্পীরই নেই। তিনি ম্যাজিক দেখাতে জানতেন, ডিরেকশন দিতে জানতেন, গান লিখতে জানতেন, হাত দেখতেন, ভালোবাসতে পারতেন।
**মাহফুজ আহমেদ অভিনেতা**
সাংবাদিক পেশা থেকে অভিনয় করি। প্রথমে খুব একটা বড় চরিত্রে কাজ করা হচ্ছিল না। পরে হুমায়ূন স্যারের হাত ধরেই চলে আসি আলোচনায়। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের একটি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়ে যাই দর্শকদের কাছে। এরপর হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ আর ‘দুই দুয়ারী’-তে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাই। এরপরের কথা প্রায় সবাই জানেন। একটা সময় হুমায়ূন আহমেদের নাটক মানেই মাহফুজ আহমেদের উপস্থিতি। তার তৈরি অনেক মজার মজার চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। এ জগতে আমার ভিত্তিটা তিনিই গড়ে দিয়েছেন বলেই এখন নির্মাণে এসেছি। তাকে অনুসরণ করেই সামনে এগোচ্ছি। তার মতো ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার সবকিছু জুড়ে কারিগর হুমায়ূন আহমেদ স্যার। তিনি নেই এটা কখনও মনে আসে না। আমার সব নির্মাণের শুরুতেই সর্বদা স্যারকে স্মরণে রাখি।
**বিপাশা হায়াত অভিনেত্রী**
বাবা আবুল হায়াতের হাত ধরে নাটকের শুটিং দেখতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আমার। এরপর ‘অয়োময়’ নাটকে ছোট মীর্জার শালির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য হুমায়ূন স্যার আমাকে সুযোগ দেন। এ নাটকে অভিনয় দিয়েই শুরু হয় আমার পথচলা। এই অয়োময়ই আমাকে অভিনয়ের প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর হুমায়ূন আহমেদের আরও অনেক নাটকেই অভিনয় করেছি আমি। তবে আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি হুমায়ূন স্যারের ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেই। তার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। তার সময়কার অনেক স্মৃতিই এখন চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন আমাদের হিমু স্যার।
**রিয়াজ চিত্রনায়ক**
স্যার আমাদের মাঝে বেঁচে নেই এটা আমি বিশ্বাস করি না। তিনি তার সৃষ্টির মাধ্যমে সবখানেই আছেন। আমরা তাকে অনুভব করি সবসময়। হয়তো ধরতে পারি না বা দেখতে পারি না। তার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো খুব মিস করি। তার ডিরেকশন মিস করি, তার অ্যাকশন বলা, কাট বলা, তার সঙ্গে আড্ডা দেয়া মিস করি। আমি মনে করি, বাংলা ভাষার সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিপ্রেমীরা সবাই মহান একজন শিল্পী ও শিল্পের স্রষ্টাকে মিস করেন। আর সাংবাদিক ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাই, তারা এই নন্দিত সৃষ্টির কারিগরকে মনে রেখেছেন। আশা করি সারা জীবন মনে রাখবেন। আজ তার জন্মদিনে সারের কথা বেশি করে মনে পড়ছে কারণ স্যারের জন্মদিন মানেই অন্যরকম একটি দিন ছিল। স্যার যেখানে আছেন আশা করি ভালো আছেন।
**জাহিদ হাসান অভিনেতা**
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর মঞ্চ নাটকে কাজ শুরু করি। মঞ্চে ‘বিচ্ছু’ নাটকে অভিনয় করে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের চোখে পড়ে যাই। এরপর আমাকে নিয়ে স্যার ‘আজ রবিবার’ নাটক তৈরি করেন। এতে আনিস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পাই। এরপর তার নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনেতা হয়ে যাই। ‘সবুজ সাথী’ নাটকে লাঠিধরা পাগলা মফিজের চরিত্র, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে গাতক মতি, ‘আমার আছে জল’ ছবিতে জামিলসহ হুমায়ূন আহমেদের তৈরি করা অসংখ্য মজার মজার চরিত্রে কাজ করেছি। নিজেকে ধন্য মনে করি যে হুমায়ূন আহমেদের মতো এমন একজন কিংবদন্তি মানুষের সংস্পর্শে গিয়ে কাজ করেছি। এমন ভাগ্য অনেক অভিনয় শিল্পীরই নেই। তিনি ম্যাজিক দেখাতে জানতেন, ডিরেকশন দিতে জানতেন, গান লিখতে জানতেন, হাত দেখতেন, ভালোবাসতে পারতেন।
**মাহফুজ আহমেদ অভিনেতা**
সাংবাদিক পেশা থেকে অভিনয় করি। প্রথমে খুব একটা বড় চরিত্রে কাজ করা হচ্ছিল না। পরে হুমায়ূন স্যারের হাত ধরেই চলে আসি আলোচনায়। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের একটি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়ে যাই দর্শকদের কাছে। এরপর হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ আর ‘দুই দুয়ারী’-তে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাই। এরপরের কথা প্রায় সবাই জানেন। একটা সময় হুমায়ূন আহমেদের নাটক মানেই মাহফুজ আহমেদের উপস্থিতি। তার তৈরি অনেক মজার মজার চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। এ জগতে আমার ভিত্তিটা তিনিই গড়ে দিয়েছেন বলেই এখন নির্মাণে এসেছি। তাকে অনুসরণ করেই সামনে এগোচ্ছি। তার মতো ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার সবকিছু জুড়ে কারিগর হুমায়ূন আহমেদ স্যার। তিনি নেই এটা কখনও মনে আসে না। আমার সব নির্মাণের শুরুতেই সর্বদা স্যারকে স্মরণে রাখি।
**বিপাশা হায়াত অভিনেত্রী**
বাবা আবুল হায়াতের হাত ধরে নাটকের শুটিং দেখতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আমার। এরপর ‘অয়োময়’ নাটকে ছোট মীর্জার শালির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য হুমায়ূন স্যার আমাকে সুযোগ দেন। এ নাটকে অভিনয় দিয়েই শুরু হয় আমার পথচলা। এই অয়োময়ই আমাকে অভিনয়ের প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর হুমায়ূন আহমেদের আরও অনেক নাটকেই অভিনয় করেছি আমি। তবে আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি হুমায়ূন স্যারের ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেই। তার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। তার সময়কার অনেক স্মৃতিই এখন চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন আমাদের হিমু স্যার।
**রিয়াজ চিত্রনায়ক**
স্যার আমাদের মাঝে বেঁচে নেই এটা আমি বিশ্বাস করি না। তিনি তার সৃষ্টির মাধ্যমে সবখানেই আছেন। আমরা তাকে অনুভব করি সবসময়। হয়তো ধরতে পারি না বা দেখতে পারি না। তার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো খুব মিস করি। তার ডিরেকশন মিস করি, তার অ্যাকশন বলা, কাট বলা, তার সঙ্গে আড্ডা দেয়া মিস করি। আমি মনে করি, বাংলা ভাষার সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিপ্রেমীরা সবাই মহান একজন শিল্পী ও শিল্পের স্রষ্টাকে মিস করেন। আর সাংবাদিক ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাই, তারা এই নন্দিত সৃষ্টির কারিগরকে মনে রেখেছেন। আশা করি সারা জীবন মনে রাখবেন। আজ তার জন্মদিনে সারের কথা বেশি করে মনে পড়ছে কারণ স্যারের জন্মদিন মানেই অন্যরকম একটি দিন ছিল। স্যার যেখানে আছেন আশা করি ভালো আছেন।

No comments:
Post a Comment