জমি
অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ তিনগুণ করে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল
আইন, ২০১৬’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগে এই ক্ষতিপূরণ
ছিল দেড়গুণ। সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে
মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ
শফিউল আলম প্রেস বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। শফিউল আলম বলেন,
‘যেহেতু আইনটি ভূমি সংক্রান্ত ও জটিল এজন্য এটাকে আরও বিস্তারিতভাবে
পর্যালোচনার জন্য আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভূমি
সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব হবেন এ কমিটির সদস্য।
কমিটি
মনে করলে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটি ভেটিংসহ (আইন
মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা) আইনটি চূড়ান্ত করবে।’ খসড়া আইনে জমি
অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক পারপাস’ ও ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট’ বলে দুটি শব্দ
আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘এই দুটি শব্দ সত্যিকার অর্থে
কি বুঝায় এটা ব্যাপক বিশ্লেষণ করে যেন আইনে সন্নিবেশিত করা হয় এজন্য
কমিটিকে বলা হয়েছে। আইনে যা আছে তা দিয়ে শব্দ দুটির অর্থ বিস্তারিতভাবে
বুঝা যাচ্ছে না।’ এই আইনটি হলে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আসবে
বলেও জানান শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘জমির ক্ষতিপূরণ দেড়গুণের মধ্যে আছে,
সেটা হয়ে যাবে তিনগুণ। অধিগ্রহণ করা জমির মূল দাম যদি এক কোটি টাকা হয়
তাহলে নতুন আইন অনুযায়ী এর সাথে আরও ২০০ ভাগ যুক্ত হয়ে ৩ কোটি টাকা
(ক্ষতিপূরণ পাবে মালিক) হবে। অর্থাৎ মূল মূল্যের তিনগুণ।’ জমি অধিগ্রহণের
বর্তমান অধ্যাদেশটি ১৯৮২ সালের জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘সেটাকেই মোটামুটি
বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন আইনের একটা বড় সমস্যা হলো ক্ষতিপূরণ কম। এছাড়া
এটা মার্শাল ল আমলের আইন। কোর্টের আদেশ আছে মার্শাল ল আমলের আইনকে বাংলায়
অনুবাদ করে নতুনভাবে করতে হবে। এজন্য নতুন আইনটি আনা হয়েছে।’

No comments:
Post a Comment