সুনামগঞ্জ
সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম
বশির আহমেদ (৩৫)। সে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের পাহাড়তলী
রজনীলাইন গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে। নিহতের পারিবার ও সীমান্ত এলাকার
লোকজন সূত্রে জানা গেছে, বশির আহমদ কাজের সন্ধানে রোববার রাতে সীমান্তের
ওপারে ভারতের মেঘালয় স্টেইটের বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনে অনুপ্রবেশ করলে সেখানে
ভারতীয় নাগরিকরা তাকে ধরে বেঁধে বেধরক পেটায়। পরবর্তীতে বশিরের মৃত্যু
নিশ্চিত হলে ভারতীয় বড়ছড়া থানার সামনে লাশ ফেলে রাখে। খবর পেয়ে নিহতের
স্বজন ও উৎসুক জনতা সোমবার ভোর থেকেই বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের এপারে ভীড় জমায়।
পরে নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওপারের বড়ছড়া থানার সামনে গিয়ে লাশ
শনাক্তের পর এপারে ফিরে আসে। এদিকে নিহতের পরিবারের লোকজন সুনামগঞ্জ-২৮
বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ট্যাকেরঘাট কোম্পানী হেডকোয়ার্টারে সকালে
গিয়ে লাশ ফেরত আনতে বিজিবির সরণাপন্ন হন।
উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক মিয়া
যুগান্তরকে বলেন, বশির চোর নয়, হয়ত কাজের সন্ধানে ওপারে গিয়েছিলো। তিনি আরও
বলেন , বশির অপরাধী হলে ভারতের আদালতেও বিচার হতে পারত কিংবা বিজিবির
মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত দিলেও এদেশের আদালতেও তার অপরাধের বিচার হতো।
কিন্তু তাকে পিটিয়ে মারার অধিকার তো কারো নেই। সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড
ব্যাটালিয়নের বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. মাহবুব হাসান সীমান্তের
ওপারে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিএসএফের
সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পতাকা বৈঠক আহবান করা হয়েছে। লাশ ফেরত আনার জন্য
বিজিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুনেছি ভারতীয়
নাগরিকরা চোর সন্দেহে বশির নামক ওই যুবককে রোববার রাতে গণপিটুনি দেয়ার
একপর্যায়ে সে মৃত্যু বরণ করলে তার লাশ ভারতের বড়ছড়া থানা পুলিশের হেফাজতে
রাখা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment