বাণিজ্য
এবং অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিয়ে নতুন চুক্তি না করলে 'এক চীন' নীতি থেকে
সরে গিয়ে তাইওয়ানকে সমর্থন দেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে
যুক্তরাষ্ট্রের 'এক চীন' নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি
বলেন, চীন যদি কিছু ইস্যুতে দর কষাকষিতে রাজি না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের
পক্ষে তাইওয়ানকে চীনের অংশ মনে করার নীতি মেনে চলার কোনো কারণ দেখেন না
ট্রাম্প। তিনি বলেন, ' যদি বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে চীনের সঙ্গে আমরা
কোনো চুক্তি না করি, তাহলে আমরা কেন 'এক চীন' নীতি মেনে চলতে হবে তা আমার
বুঝে আসে না।' ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং চীনা
প্রেসিডেন্ট মাও সেতুংয়ের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে দু'দেশের সম্পর্ক
পুনঃস্থাপনের পর থেকে ওয়াশিংটন এক চীন নীতি মেনে আসছে। সম্প্রতি নির্বাচিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং
ওয়েনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন এবং টুইটারে চীনকে আক্রমণ করে দেশটির সঙ্গে
কূটনৈতিক ঝগড়ার সূচনা করেন।
এ ঘটনার পক্ষকালের মধ্যেই ট্রাম্প এক চীন নীতি
থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেন। রোববারে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের
প্রেসিডেন্টকে ফোন করার বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,
'চীন আমার ওপর কর্তৃত্ব করুক- এমনটি আমি চাই না।' তাকে ফোন করা হয়েছিল দাবি
করে ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল সংক্ষিপ্ত সময়ের একটি চমৎকার ফোনালাপ। তিনি কোন
ফোন রিসিভ করবেন না, করবেন তা কেন অন্য দেশ কীভাবে বলতে পারে তার
ঔচিত্যবোধ নিয়েও ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন। নবনির্বাচিতে প্রেসিডেন্টের মতে,
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ফোনালাপ নিয়ে চীনের মন্তব্য অত্যন্ত
অসম্মানজনক এবং এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, চীন তার
মুদ্রার অবমূল্যায় করে, আমরা তাদের কিছুই আরোপ না করলেও তারা আমাদের
উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে, দক্ষিণ চীন সাগরের মাঝখানে বিশাল সামরিক দূর্গ
তৈরি করে আমাদের খুবই বাজেভাবে আঘাত করেছে। এসব তাদের করা উচিত নয়। উত্তর
কোরিয়ার ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা না করাও ঠিক নয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

No comments:
Post a Comment