গুলশানে
হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্টুরেন্ট এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদ জামাতে
জঙ্গি হামলায় নিহত ৪ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বুধবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে নিহত
পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। চেক
গ্রহণকালে নিহত পুলিশ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী
তাদের সান্ত্বনা দেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানিয়েছেন। গোয়েন্দা বিভাগের
(ডিবি) সিনিয়র সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট রবিউল করিম এবং বনানী থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন খান চলতি বছরে ১ জুলাই হলি আর্টিজান
রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন। ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদ জামাতে জঙ্গি
হামলায় নিহত হন কনস্টেবল জহুরুল হক ও কনস্টেবল আনসারুল হক। রবিউল করিমের মা
করিমন নেছা, বাবা সাজেদুল ইসলাম, স্ত্রী উম্মে সালমা,
সালাউদ্দিন খানের
স্ত্রী বেগম রিম করিম, মেয়ে সামান্তা, ছেলে সেম রাইয়ান, কনস্টেবল আনসারুল
হকের মা রাবেয়া আক্তার, স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম এবং কনস্টেবল জহিরুল হকের
মা জুবাইদা খাতুন এদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।
চেক প্রদান অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের নয় সদস্যের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর
উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম, স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ,
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম
শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রবিউল করিম
চার বছরের বেশি সময় পুলিশে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে যান তিনি।
ঠিক এক মাস পর তার স্ত্রী একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। গোপালগঞ্জের
সালাউদ্দিন খান প্রায় ২৫ বছর ধরে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক
মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। ২৯ বছর বয়সী কনস্টেবল আনছারুল হকের নেত্রকোনার
বাড়িতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা থাকেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার জহিরুল
ইসলামের মাও গ্রামের বাড়িতেই থাকেন।

No comments:
Post a Comment