রংপুর
ক্রমশ রং হারাচ্ছে। ঢাকা ফিরে পাচ্ছে নিজেদের। ডায়নামাইটস নামটা কাল
সার্থক করেছেন এভিন লুইস। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই বিস্ফোরক ব্যাটিং
করলেন এই ক্যারিবীয় ওপেনার। ৩৪ বলে ৭৫। চার মাত্র তিনটি। আটটি ছয়। তার
ধামাকা-ব্যাটিংয়েই ঢাকা পেয়ে যায় ১৮৮ রানের পুঁজি। ঢেকে যায় রংপুর। ১৮৯
তাড়া করতে নেমে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করলেও ১৪৬ রানের বেশি এগোতে পারেনি
তারা। ঢাকা জয়ী হয় ৪২ রানে। ১০ ম্যাচ শেষে সাত জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই
সাকিব আল হাসানের দল ঢাকা ডায়নামাইটস। দুই পয়েন্টে পিছিয়ে তামিম ইকবালের
চিটাগং ভাইকিংস দ্বিতীয় স্থানে। ছয় ম্যাচে তাদের ১২ পয়েন্ট। আর এক সময়
পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা রংপুর রাইডার্স নেমে গেল ষষ্ঠ স্থানে। ১০ মাচে
১০ পয়েন্ট তাদের। বুধবার মিরপুরে বিপিএলের ৩৪তম ম্যাচের বস যে এভিন লুইস তা
বিলক্ষণ বোঝা যায়। তৃতীয় ওভারে শুরু লুইস-ঝড়। সোহাগ গাজীকে স্কোয়ার লেগ
দিয়ে ছয় মারার পর শহীদ আফ্রিদিকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়। ২১ বলে ৫০ পূর্ণ
করা লুইসের ছক্কা-তাণ্ডব থেকে নিস্তার পাননি লিয়াম ডসন এবং সৌম্য সরকারও।
১২তম ওভারে বদলি ইলিয়াস সানির ক্যাচ লুইচ-শোয়েব যবনিকাপাত ঘটায়। তার আগে
ফর্মে থাকা ঢাকার ওপেনার মেহেদি ফারুক ৪০ রান করেন ৩১ বলে। তিনটি করে চার ও
ছয় তার ইনিংসের শোভা বাড়ায়। লুইসের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে মেহেদি ১০৩ রান
যোগ করেন ১০ ওভারের মধ্যে। ঢাকার সাত উইকেটে ১৮৮ রানের মূল স্তম্ভ এই
পার্টনারশিপ। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ২০ বলে ২৯ এবং মোসাদ্দেক হোসেন নয় বলে
অপরাজিত ১৪ রান করেন। সাকিব ও ডুয়ানে ব্রাভো জুটিতে ৩৪ রান ওঠে পঞ্চম
উইকেটে। তিনটি উইকেট নেন রুবেল হোসেন। রংপুরের স্পিনাররা নয় ওভারে দিয়েছেন
১০৪ রান। এতদিন তারাই ছিলেন রাইডার্সের আক্রমণভাগের শক্তি। সেই তারাই এই
ম্যাচে রংহীন। ঢাকার সাত উইকেটই নিয়েছেন রংপুরের পেসাররা। ১৮৯ তাড়া করার
জন্য বিস্ফোরক সূচনার প্রয়োজন ছিল। সেই আশায় টি ২০-তে ২০১২-র পর এই প্রথম
ওপেনার হিসেবে নেমেছিলেন আফ্রিদি। বাইশ গজে তিনি স্থায়ী হন মাত্র দুই
মিনিট। দুই বল খেলেই আউট। আর নবম ওভারে সৌম্য যখন সাজঘরে ফেরেন, রংপুর তখন
৬/৪৬। জিয়াউর রহমান ও সোহাগ গাজী খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বটে। সপ্তম
উইকেটে এ দু’জনের জুটির যোগফল ৮৭ রান। ম্যাচের শেষ বলে বোল্ড হওয়া জিয়াউর
ছয়টি চার ও তিনটি ছয়ে ৬০ রান করেন ৪৩ বলে। টি ২০-তে এটাই তার প্রথম ফিফটি।
সোহাগ গাজীর অবদান ২৬ বলে ৩৬। তিনটি চার ও একটি ছয়। আবু জায়েদ (৩/২০) ও
সাকিব (২/১১) ঢাকার সবচেয়ে কার্যকর বোলার। অভিষেক লগ্ন লুইস রাঙিয়ে তোলেন
ম্যাচসেরা হয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮৮/৭, ২০ ওভারে (মেহেদী ফারুক ৪০, এভিন লুইস ৭৫, সাকিব ২৯, ব্রাভো ১৬, মোসাদ্দেক হোসেন ১৪*, রুবেল হোসেন ৩/২৫, সৌম্য ২/২৭, জিয়াউর রহমান ২/২২)।
রংপুর রাইডার্স ১৪৬/৮, ২০ ওভারে
(নাসির জামশেদ ২১, ডসন ১১, জিয়াউর রহমান ৬০, সোহাগ
গাজী ৩৬, আবু জায়েদ ৩/২০
সাকিব ২/১১)।
ফল : ঢাকা ডায়নামইটস
৪২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : এভিন লুইস (ঢাকা ডায়নামাইটস)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮৮/৭, ২০ ওভারে (মেহেদী ফারুক ৪০, এভিন লুইস ৭৫, সাকিব ২৯, ব্রাভো ১৬, মোসাদ্দেক হোসেন ১৪*, রুবেল হোসেন ৩/২৫, সৌম্য ২/২৭, জিয়াউর রহমান ২/২২)।
রংপুর রাইডার্স ১৪৬/৮, ২০ ওভারে
(নাসির জামশেদ ২১, ডসন ১১, জিয়াউর রহমান ৬০, সোহাগ
গাজী ৩৬, আবু জায়েদ ৩/২০
সাকিব ২/১১)।
ফল : ঢাকা ডায়নামইটস
৪২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : এভিন লুইস (ঢাকা ডায়নামাইটস)।

No comments:
Post a Comment