Tuesday, December 27, 2016

নিয়োগ বাণিজ্যে এমপির নাম

বগুড়া ধুনটের গোপালনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মী মো. জুয়েল। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর শূন্যপদে চাকরির আবেদন করেছিলেন ২০১৩ সালে। এ পদে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় তিনি প্রথম হন। চাকরি দেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের নাম করে তার পিএস মিলন তিন লাখ টাকা ঘুষ নেন। এরপরও তার চাকরি হয়নি। আরও চড়া দামে অন্য একজনকে চাকরিটা দেয়া হয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি জুয়েল। আদালতে মামলা করে রায় পান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার চাকরি হয়নি। দুই বছর দৌড়ঝাঁপ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন। বাকি ২০ হাজার টাকা এখনও ফেরত পাননি। ২০০৮ সালের পর থেকে ৮ বছরে ধুনট ও শেরপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একইভাবে কমপক্ষে শতাধিক পদে নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে।
প্রায় প্রতিটি নিয়োগের সঙ্গেই এমপির নাম জড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকার কাছে হেরে গেছেন এলাকার মেধাবী চাকরিপ্রার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াত, শিবির ও বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিতরা। গোপালনগর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, ‘২০১৩ সালে স্থানীয় রান্ডিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম নৈশপ্রহরী পদে আবেদন করেছিলাম। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই এমপির নাম করে তার পিএস মিলন তিন লাখ টাকা নেন। পরে মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়।’ জুয়েল বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষা সনদ জাল। এমনকি তার সরকারি চাকরির বয়সও ছিল না। এছাড়া ওই নিয়োগ পরীক্ষায় আমিই প্রথম হই। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে তাকে চাকরি দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘এরপর ওই নিয়োগ বাতিলের আদেশ চেয়ে আদালতে মামলা করি। মামলায় আমি রায় পাই। এখন রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। এমপির পিএসকে দেয়া তিন লাখ টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা এখনও ফেরত পাইনি।’ সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, এমপি হাবিবর রহমান,
ছেলে সনি ও পিএস মিলনের দাপটে অসহায় নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ। দলীয় রাজনৈতিক নেতারাও এমপির এসব বাণিজ্যের প্রতিবাদ করে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ঢাকায় একটি বর্ধিত সভায় এমপির বিরুদ্ধে দলীয় সভানেত্রীর কাছেও অভিযোগ করে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দলীয় সভানেত্রীর সামনে এমপি হাবিবর রহমানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছি।’ এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি তিনি। আপনার নাম ভাঙিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে আপনার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে- এর জবাবে এমপি হাবিবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে এক টাকাও নেয়া হয়নি। টাকা নিয়ে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগের এমপি হয়েও আপনি স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবির বা বিএনপি নেতা চাকরি পেয়েছেন, এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।’ পিয়ন ও নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেয়ার নামে তিন লাখ ঘুষ নেয়া এবং দু’বছর ঘুরিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি। উল্টো অভিযোগ শোনার পর উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিয়োগের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পর্কে এমপিপুত্র আসিফ ইকবাল সনি বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে স্বচ্ছতা রাখা হয়েছে, তা আর কোথাও হয়নি।’ এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলার সময় এমপি হাবিবর রহমানকে বারবার থামিয়ে দেন সনি। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা যাবে না বলে সাবধান করে দেন এমপিপুত্র। এমপির কাছে বক্তব্য চাইলেও যুগান্তর প্রতিবেদকদের প্রশ্নের জবাব সনিকেই দিতে দেখা যায়। এমপির পিএস মিলনও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নিয়োগ বাণিজ্যের সাক্ষী : আট বছরে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে শতাধিক অভিযোগ থাকলেও চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগী এমপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি। এরপরও যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে চাকরি বাণিজ্যের শিকার এমন অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। তাদের কেউ স্বনামে কেউ নাম গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা ভেন্নাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি ধুনটের গোপালনগর ইউএকে উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন। তাকে নিয়োগ দিতে রাজি ছিলেন এমপি। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপে বিএনপি সমর্থক আতাউর রহমানকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ একজনের দেয়া তথ্যানুযায়ী তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, চাকরি দেয়ার নামে নেয়া এক লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন কিনা। এ সময় সরাসরি জবাব না দিয়ে শহিদুল ইসলাম মুচকি হাসেন। কথোপকথনের সময় শহিদুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আলীম আল রাজী। এ প্রসঙ্গে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘তার (শহিদুল) এক লাখ টাকা এমপির কাছ থেকে আমিই ফেরত এনে দিয়েছি।’ তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ধুনট ডিগ্রি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আবদুল আজিজের মামাশ্বশুর এমপি হাবিবর রহমান। এ ভাগ্নি জামাইকে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়েও তিনি টাকা নেন। এ বিষয়ে আবদুল আজিজ মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি ২০১১ সালে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পেতে মামাশ্বশুর এমপি হাবিবর রহমানকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
কিন্তু ৬ জন শিক্ষক ওই পদে নিয়োগ বন্ধে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এমপি হাবিবর রহমানকে প্রধান বিবাদী করে আদালতে মামলা করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে তার ওই টাকা ফেরত দেয়া হয়।’ ধুনট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবু মারজান মো. শাহজাহান বলেন, ‘ধুনট ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হিসেবে এমপি হাবিবর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসহ অন্যান্য খাতে বড় অংকের টাকার বাণিজ্য করেছেন। তার সময়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক ৮ জন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।’ একই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে এমপির আস্থাভাজন একজনকে পেছনের তারিখে নিয়োগ দিতে রাজি না হওয়ায় এমপি তাকে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।’ এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এ অধ্যক্ষ জানান, এ বিষয়ে তিনি ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ধুনটের গোসাইবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ দৌলতজামান সরকারকে ২০১৪ সালে বরখাস্ত করা হয়। দৌলতজামান অভিযোগ করে যুগান্তরকে বলেন, এমপিপুত্র সনির কারণে তিনি এখন নিঃস্ব। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই সনি তাকে শারীরিকভাবে অক্ষম ঘোষণার পাঁয়তারা করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘অন্য একজনকে এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ করতে ঘুষ নেন সনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাকে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করা হয়, ওই প্রার্থী নিজেই সনিকে ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। এমনকি ওই প্রার্থী পদ থেকে সরে যেতে তাকেও (অধ্যক্ষ দৌলতজামান সরকারকে) দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। চাকরি ফিরে পেতে দৌলতজামান আদালতের আশ্রয় নেয়ার কথা জানান। বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। এমপিপুত্র আসিফ ইকবাল সনি এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন,
আমি সভাপতি হওয়ার পর কলেজের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি। অধ্যক্ষ বা শিক্ষকের কোনো পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য কারও কাছ থেকে ঘুষ নিইনি। ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা-ভিত্তিহীন। একইভাবে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমানকে সরিয়ে দেয়া হয়। তিনি এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার মামলা আদালতে বিচারাধীন। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিন দফায় তদন্ত করে এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি। এরপরও তাকে স্বপদে বহাল করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আবু নোমান নামে তার এক ছেলে একই (শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার) প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে রহস্যজনক কারণে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ বাণিজ্য সম্পর্কে একই কথা বলেন ধুনট ডিগ্রি কলেজের এক অধ্যাপক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুই উপজেলায় নিয়োগ বাণিজ্যের যে চিত্র, তা বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। এখনও একাধিক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। ওই শিক্ষক বলেন, বর্তমান এমপির মেয়াদেই ধুনট ডিগ্রি কলেজে ১৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী যুবলীগ নেতা : ধুনট উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলীম আল রাজী বুলেট বলেন, দলের অনেক শিক্ষিত ছেলে চাকরি পাচ্ছে না। অথচ জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিতদের চাকরি দিচ্ছেন স্থানীয় এমপি। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছর নারায়ণপুর টেকনিক্যাল কলেজে অবৈতনিকভাবে প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছি। ধুনট ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমি এমপিকে বলেছি, এ পদের যারা ইন্টারভিউ দেবে তাদের মধ্যে আমি প্রথম হতে না পারলে আমাকে নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তিনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। বড় অংকের বিনিময়ে অন্য উপজেলার অযোগ্য একজনকে নিয়োগ দেন। অথচ স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান আছে। এক্ষেত্রে সে বিধানও লংঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, ধুনট এবং শেরপুর উপজেলার বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিওন কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। নিয়োগের বিনিময়ে কোটি টাকার ঘুষ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেধা তালিকায় নিয়োগ না পেয়ে বঞ্চিতরা আদালতে ৩টি মামলা করেছেন। যার দুটি এখনও বিচারাধীন। অপর মামলার বাদী আরিফকে আদালতের নির্দেশে মাটিকোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়।
শিবির-বিএনপিতে সখ্য : হাবিবর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হলেও বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য বেশি। ধুনট-শেরপুর আসনে তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দুই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। অধিকাংশ পদে তিনি বেছে বেছে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থক বা নেতা হিসেবে পরিচিতদের নিয়োগ দেন। সম্প্রতি ধুনট মহিলা ডিগ্রি কলজে অধ্যক্ষ পদে ১২ জন আবেদন করেন। কলেজ প্রশাসন প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ একটি তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকা যুগান্তরের কাছে পৌঁছেছে। এতে দেখা যায়, এ ১২ জনের ৯ জনই জামায়াত-বিএনপি ঘরানার। দু’জন নির্দলীয় এবং একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। নিয়োগের সুবিধার্থে রাজনৈতিক পরিচয়ের এ তালিকাটি এমপি হাবিবর রহমানকে দেয়া হয়। তালিকায় আবু মোহাম্মদ গোলাম ইউনুছ নামে এক প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের ঘরে উল্লেখ করা হয়, তিনি মুসলিম লীগ পরিবারের সদস্য। বর্তমানে জামায়াত সমর্থক। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে ধুনট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে তাকেই বেছে নেয়া হয়। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক প্রভাষক নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামায়াতের এ প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আলীম আল রাজী যুগান্তরকে বলেন,
ধুনটের জোড়খালী মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে নিজ দলের অনেক প্রার্থী থাকলেও এমপি উপজেলা শিবির নেতা হিসেবে পরিচিত একরামুল হক ও একই প্রতিষ্ঠানে ধুনট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাককে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। একইভাবে গোসাইবাড়ী ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত জাহিদুল ইসলামকে সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও শাহাদত হোসেনকে শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেন। গোপালনগর ইউএকে উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু সেখানে সভাপতি হয়েছেন চরখুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কুদ্দুস। তাকে সভাপতি করার পেছনেও এমপির ইন্ধন আছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিকে বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সরকারি বিধি লংঘন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল কুদ্দুস যুগান্তরকে বলেন, দাতা হিসেবে তিনি গোপালনগর ইউএকে উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন। এজন্য এমপি তাকে সহযোগিতা করেননি। এমনকি টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি। একইভাবে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত ও কাহালু উপজেলার শীতলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলামকে খাটিয়ামারি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়।
এলাকাবাসী এ দুই সভাপতির পদ বাতিলের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেন। এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী যুগান্তরকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক স্কুলে কর্মরত কোনো শিক্ষক বা প্রধানশিক্ষক বেসরকারি কোনো বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। ধুনট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে বিকাশ কুমার সাহাকে নিয়োগ দেয়া হয়। বিনিময়ে এমপি তার কাছ থেকে ধুনট উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে মাত্র দেড়শ’ গজ দূরত্বে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতক জমি ৫৬ লাখ টাকায় কিনে নেন। ওই জমিতে এখন এমপি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বিকাশ কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, ২০১২ সালের শেষদিকে অধ্যক্ষের দায়িত্বে যোগ দেন তিনি। সোনালী ব্যাংক ধুনট শাখায় ভাইয়ের ঋণ পরিশোধ করতে এমপির ছেলে সনির কাছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা শতক হিসেবে ২০ শতক জমি ৫৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। চাকরির বিনিময়ে জায়গা দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এদিকে পাঁচথুপি জাহের আলী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুল আলিমকে নিয়োগ দেয়া হয়। একই স্কুলে পিস কমিটির সদস্য জামায়াত নেতা জেল হোসেনের ছেলে শিবির নেতা হিসেবে পরিচিত ফয়সালকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

No comments:

Post a Comment