Saturday, December 17, 2016

শিশুর এডেনয়েডে প্রদাহ হলে কী করবেন

এডেনয়েড (adenoid ) শিশুদের রোগ। টসিলের পাশে পিছনের দেয়ালে এডেনয়েডের অবস্থান। এটা এক ধরনের লিম্ফয়েড টিস্যু, যা নাকের পেছনে গলবিলের উপরিভাগে থাকে। সাধারণত দুই বছরের নিচের শিশুদের এডেনয়েড দেখা দেয় বারো বছর বয়সে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। এডেনয়েড সম্পর্কে যুগান্তরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ড. সাখাওয়াত আলম বলেন, তিন থেকে ১২ বছরের মধ্যে যদি উপরের শ্বাসনালির বা এডেনয়েডের ইনফেকশন হয় তাহলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
* নাক বন্ধ থাকা  গলবিল এবং মধ্য কর্ণের সংযোগকারী ইউস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ থাকা  ইনফেকশন অথবা প্রদাহ থাকা।
* শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া।
* সর্দি পড়তে থাকা।
* শিশু মুখ হাঁ করে ঘুমানো।
* সাইনোসাইটিস হতে পারে।
* ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা
* জোরে জোরে শ্বাস নেয়া।
* ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে ইউস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ থাকার উপসর্গ
* নাশা রন্দ্রের ব্লক করে দেয়। এতে মাঝে মাঝে কানে ব্যথা হয়।
* পর্দার পেছনে মধ্য কর্ণে পানি জমে, যাকে অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফিউশন বলে।
* কানে কম শোনা
* অনেক সময় মধ্যকর্ণে ইনফেকশন হতে পারে।
* স্কুলের পড়ালেখায় মনোযোগ কম হয়
* রেডিও-টেলিভিশন উচ্চ শব্দে শোনে এডেনয়েডের জন্য জটিলতা
* খেতে অনেক সময় লাগে।
* পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়।
* শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
* নাকের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না বলে নাক ছোট হয়ে যায়।
* নাক ও মুখের মাঝখানের খাঁজ থাকে না।
* কানপাকা রোগ হয়।
* মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এক্সরের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়। সাধারণভাবে শিশুর এডেনয়েড রোগ ছয় বছর বয়স বড় হয় এবং বারো বছর বয়সের মধ্যে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। ১২ বছর বয়সের মধ্যে যদি না কমে তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। তবে বেশি বড় হয়ে গেলে এবং শ্বাসনালিকে বাধাগ্রস্ত করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।

No comments:

Post a Comment