প্রায়
চার দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত ‘এক চীন নীতি’ লংঘন করে তাইওয়ানের
প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়ানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি তাইওয়ানের
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। খবর এএফপি ও বিবিসির। যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৭৯ সালে এক চীন নীতি গ্রহণ করার পর থেকে
এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রেসিডেন্ট
ফোনে সরাসরি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন। ট্রাম্পের এ
পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। এক টুইটে ট্রাম্প জানিয়েছেন,
কলটি সাই ইং ওয়ানই করেছিলেন। টুইটে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী
হওয়ায় অভিনন্দন জানাতে আজ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট আমাকে কল করেছিলেন।
ধন্যবাদ আপনাকে!’ ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম জানিয়েছে, জানুয়ারির নির্বাচনে
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সাইকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প।
আলাপে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে ‘ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মিত্রতার’ কথা উল্লেখ করেন।
এ আলাপের কারণে চীন
ক্ষিপ্ত হতে পারে গণমাধ্যমে এমন মন্তব্য আসার পর আরেকটি টুইটে ট্রাম্প
বলেন, ‘মজার ব্যাপার, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের
সামরিক রসদ বিক্রি করছে আর অভিনন্দন জানিয়ে করা একটি কল গ্রহণ করা আমার
উচিত হবে না।’ সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ট্রাম্পকে ফোন
করেছিলেন। সেসময় তারা দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প
চীনের বিরুদ্ধে বেশ কড়া সুরে কথা বলেছিলেন। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দফতর
জানিয়েছে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং নিবিড় সহযোগিতা
স্থাপনের বিষয়ে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের আলাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক চীন নীতিতে’ কোনো পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত নয়। তাই
ট্রাম্পের ফোনালাপে এ ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। ট্রাম্পের মুখপাত্র
জানিয়েছেন, তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে ট্রাম্প ‘বেশ
সচেতন’ আছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে মার্কিন
প্রেসিডেন্টের দফতর অন্ধকারে ছিল। তাইওয়ানকে একটি ‘বিচ্ছিন্নতাকামী’ প্রদেশ
হিসেবে বিবেচনা করে চীন। স্বাধীনতা ঘোষণার চেষ্টা করলে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে
বলপ্রয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে দেশটি। ওয়াশিংটনের দ্য সেন্টার ফর
স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিসের এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র
উপদেষ্টা বনি গ্লাসার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ট্রাম্প আগপাছ না ভেবেই
সারা বিশ্বের নেতাদের অভিনন্দনসূচক টেলিফোন কল গ্রহণ করছেন। এটা নজিরবিহীন।
অন্তত আগে এসব বিষয় প্রকাশ্যে জানানো হতো না।
চীনের প্রতিবাদ : ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর চীন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা একটি অভিযোগও পেশ করেছেন।চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের কাছে তাদের ‘মৃদু প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্কতা ও যথাযথভাবে কাজ করার জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় কোনো সমস্যা তৈরি হতে না পারে।’
চীনের প্রতিবাদ : ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর চীন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা একটি অভিযোগও পেশ করেছেন।চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের কাছে তাদের ‘মৃদু প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্কতা ও যথাযথভাবে কাজ করার জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় কোনো সমস্যা তৈরি হতে না পারে।’

No comments:
Post a Comment