Wednesday, December 14, 2016

সবচেয়ে খারাপ হলো সেলফ সেন্সরশিপ -তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মতে সেন্সরশিপের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হলো সেলফ সেন্সরশিপ বা স্বপ্রণোদিত বিবর্জন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে লেখক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নেতা, ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় অনেক লেখক ভয়াবহ করুণ পরিণতি এড়ানোর জন্য বাধ্য হয়ে সেলফ সেন্সরশিপ বেছে নিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে তসলিমা নাসরিন কবে কোথায় এ কথা বলেছেন তা বলা হয় নি রিপোর্টে। তিনি বলেছেন, বিশ্বে আমাদের এ অংশে আমরা স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অনেক মানুষ যা বলতে চান তা বলতে পারেন না। বাংলাদেশে এখন অনেক লেখক নিজেরাই সেলফ সেন্সরশিপ আরোপ করেছেন। তা না হলে তাদেরকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে। কিন্তু আমার কাছে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ সেন্সরশিপ। এমনকি যখন আমি খবরের কাজগের জন্য লিখি তখন সম্পাদকরাই ছাপা হওয়ার আগে সেখান থেকে কিছু বাক্য কেটে ফেলেন। ৫৪ বছর বয়সী তসলিমা নাসরিন বলেন, ইসলামী কট্টরপন্থিদের কাছ থেকে পাওয়া হত্যার হুমকিতে আমার অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এ জন্য আমি তো মানুষকে হত্যা করবো না। এসব মোকাবিলার জন্য আমার নিজস্ব মেকানিজম আছে। কট্টরপন্থিরা এতটাই দুর্বল যে আমি যা বলি তারা তা সহ্য করতে পারে না।
ইউরোপের স্থায়ী নাগরিক ও আমেরিকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ভারত বাদ দিয়ে বাইরে অন্য কোথাও অবস্থান করতে চান না চিকিৎসক থেকে লেখিকা হয়ে যাওয়া তসলিমা। প্রথমদিকে তিনি বসবাস করছিলেন কলকাতায়। কিন্তু সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তখন ক্ষমতাসীন সিপিআই (এম) সরকার তাকে কলকাতা ছাড়তে বলে। তারপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসবাস করছেন। তিনি বলেছেন, আমি এখানেই বসবাস করাকেই বেছে নিয়েছি। বিশেষ করে একজন বাঙালি লেখিকা হিসেবে আমি কলকাতায় বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার দরকার একটি বাঙালি আবহ। যখন আমি কলকাতায় বসবাস করতাম তখন ছিলাম ভীষণ খুশি। এর সাড়ে তিন বছর পরে সরকার ও আমি নানা সমস্যার মুখে পড়ি। এর ফলে ওই রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হতে হয় আমাকে।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment