কিউবার
প্রয়াত বিপ্লবী নেতা ফিদেল
কাস্ত্রোর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে লাখো মানুষ জমায়েত হয়েছে। টানা নয়
দিনের শোক শেষে রোববার কাস্ত্রোকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন কিউবানরা। বিভিন্ন
দেশের নেতারাও এতে অংশ নিয়েছেন। পুরো অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ভাই
এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। এই প্রক্রিয়া শেষে সেখানেই তাকে
সমাহিত করা হবে। ফিদেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যোগ দিয়েছেন ভেনিজুয়েলা,
নিকারাগুয়া, বলিভিয়ার নেতৃবৃন্দ এবং আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা দিয়েগো
মারাদোনা।
গত ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ফিদেল। পরদিন তার
ইচ্ছানুযায়ী শবদাহ করা হয়। এরপর দেহভস্ম ঘোরানো হয় সারা দেশে। বুধবার
হাভানা ছেড়ে কিউবার পূর্বাঞ্চলীয় সান্তিয়াগো দ্য কিউবার পথে যাত্রা শুরু
করে ফিদেল কাস্ত্রোর ভস্মাধারবাহী গাড়িবহর। এই সান্তিয়াগো দ্য কিউবা থেকেই
৬০ বছর আগে ফিদেল কিউবার গণমানুষের মুক্তির স্বপ্নে বিপ্লবী যাত্রা শুরু
করেছিলেন। ফিদেলের দেহভস্মকে বিদায় জানাতে রাস্তায় ঢল নামে মানুষের।
‘কিউবাকে কিউবাবাসীর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে’, তাদের স্বাস্থ্য ও
শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানে পৌঁছে দিয়ে ‘কমাদান্তে’ যাচ্ছেন বিশ্রামে, তাই
রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিউবানরা ছোট ছোট জাতীয় পতাকা দুলিয়ে ‘ফিদেল!,
ফিদেল!’ স্লোগানে তাকে বিদায় জানান। বুধবার রাতে কিউবা বিপ্লবের অপর
কিংবদন্তি আর্নেস্ত্রো ‘চে’ গুয়েভারার সমাধিতে রাখা ছিল ফিদেলের দেহভস্ম।
একে বলা হচ্ছিল দুই বিপ্লবীর প্রতীকী মিলন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে
বিপ্লবকালীন সেই বারুদগন্ধী পথগুলো পাড়ি দিয়ে রোববার সকালে সান্তিয়াগো দ্য
কিউবায় প্রবেশ করে দেহভস্মবাহী শকটটি। ৪৯ বছর ধরে কারিশমা ও লৌহকঠিন
ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দেশ শাসন করেছেন ফিদেল। পুঁজিবাদের কেন্দ্রস্থল
যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে যুগের পর
যুগ ধরে তাকে মর্যাদার সঙ্গে টিকিয়ে রেখেছেন। ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যগত কারণে
বিপ্লবী সঙ্গী ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবসর
জীবনযাপন করছিলেন ফিদেল।

No comments:
Post a Comment