দেশে
প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে
একটানা বেলা ২টা পর্যন্ত দেশের ৫৯ জেলায় এ ভোট গ্রহণ চলছে। এ নির্বাচনের
মধ্যে দিয়ে প্রতিটি জেলা পরিষদ পরিচালনায় একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং
১৫ জন সাধারণ ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের জন্য প্রতিটি জেলার সীমানা ১৫টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। তিনটি
করে ওয়ার্ড নিয়ে হয়েছে একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড, যার সদস্য হবেন একজন নারী।
তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ থাকছে না। জেলা পরিষদ
প্রতিনিধিরা জনগণের সরাসরি (প্রত্যক্ষ) ভোটে নয় পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত
হচ্ছেন। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশন,
পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এ নির্বাচনে
ভোটার। তাদের ভোটেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রতিনিধিরা। তবে ্এই
নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটার নন। প্রার্থী হলেও তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে
পারছেন না। এজন্য আজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি নেই। তবে ভোটকেন্দ্র
হিসেবে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ। এ নির্বাচনে মূলত
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং একই দলের বিদ্রোহী
প্রার্থীরা। বেশির ভাগ প্রার্থী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বাচনে
সহিংসতার শংকাও রয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নির্বাচনে অংশ
নেয়নি। তবে এ তিন দলের ভোটাররাই জয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে
দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় ২১ জন চেয়ারম্যান, ১৬৬
জন সাধারণ সদস্য ও ৬৯ জন সংরক্ষিত সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত
হয়েছেন। ফলে আজ ৩৯ জেলার চেয়ারম্যান এবং ৫৯ জেলায় সদস্য পদে ভোট গ্রহণ
চলছে। ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৪৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২ হাজার ৯৮৬ জন
এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৬১ জেলায়
মোট ভোটার ৬৩ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৩৪৩ জন এবং নারী
ভোটার ১৪ হাজার ৮০০ জন। ভোট কেন্দ্র ৯১৫টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৮৩০টি।
প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ নির্বাচনের
রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক। সহকারী হিসেবে
রয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব
পালন করছেন জেলার অন্য নির্বাচন কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে
একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। ৬১টি জেলা
পরিষদে নির্বাচনে আটটি সংস্থার ১ হাজার ৩৩৯ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে
ইসি। এর মধ্যে ৬টি সংস্থার স্থানীয় পর্যবেক্ষক ৯৬৩ জন ও তিনটি সংস্থার
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ৩৭৬ জন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর
সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
পরোক্ষ হলেও এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জেলা পরিষদে অনির্বাচিত প্রশাসকদের
শাসন ক্ষমতার অবসান হতে যাচ্ছে। জেলা পরিষদের নেতৃত্ব যাচ্ছে নির্বাচিত
ব্যক্তিদের হাতে।

No comments:
Post a Comment