মার্কিন
নির্বাচনের আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইমেইল হ্যাকিং
বন্ধ করতে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন
নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ইমেইল হ্যাকের জন্য পুতিন
ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বলে ওবামা সরাসরি অভিযোগ এনেছেন। ওবামা
বলেন, পুতিনের অগোচরে রাশিয়ায় কোনো কিছু ঘটতে পারে না। শুক্রবার চলতি বছরের
শেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবামা। এটাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার
শেষ সংবাদ সম্মেলন হতে পারে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসের এক সমাবেশেই
ইমেইল হ্যাকিং বন্ধ না করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে পুতিনকে হুশিয়ার
করেছিলেন। খবর বিবিসি, এএফপির। ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ
ধরনের কাজ না করতে রাশিয়া ও অন্যদের স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে
তিনি রাজনীতির আগে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে স্থান দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও
রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ওবামা বলেন, গত সেপ্টেম্বরে এক
সম্মেলনে যখন সাবেক কেজিবি কর্মকর্তার পুতিনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তখন তিনি
তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। বড়দিনের ছুটি কাটাতে
হাওয়াই দ্বীপে যাওয়ার আগে ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তবে প্রকৃতপক্ষে
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ আমরা দেখিনি।’ রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের
বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে ওবামা বলেন, কিছু জবাব প্রকাশ্যে দেয়া হবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়াকে সরাসরি এমন বার্তা দেয়া হবে যা প্রকাশ্য হবে
না। তিনি বলেন, রাশিয়া আমাদের পরিবর্তন বা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিতে
পারবে না। কারণ রাশিয়া তুলনামূলক একটি ছোট দেশ, দুর্বল দেশ। কারণ তাদের
অর্থনীতি ততটা শক্তিশালী নয় যে, তাদের কাছ থেকে তেল, গ্যাস বা অস্ত্র ছাড়া
কেউ কিছু কিনতে চাইবে। তারা উদ্ভাবনশীল নয়। সম্প্রতি এক জরিপের উদ্ধৃতি
টেনে ওবামা বলেন, কেবল এক-তৃতীয়াংশ রিপাবলিকান সমর্থক পুতিনকে পছন্দ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টও এটাই চাইবেন যে আমাদের
নির্বাচনে বিদেশী প্রভাব না থাকুক।’ এদিকে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার ৮
বছরে ওবামার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল সিরিয়া সংকট। শুক্রবার সিরিয়া সংকটে
নিজের নীতির পর্যালোচনা করে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
হিসেবে আলেপ্পোতে যে নৃশংসতা চলছে সে জন্য তার নৈতিক দায় রয়েছে। তিনি বলেন,
‘আলেপ্পোতে সিরিয়া সরকার, রাশিয়া ও ইরানের অনুগতরা যে নৃশংস অভিযান
চালাচ্ছে তাতে বিশ্ব আমাদের সঙ্গে এক হয়ে বিরোধিতা করছে। আমরা দেখেছি
অবরোধ, দখল ও নিষ্পাপ বেসামরিক মানুষের ক্ষুধায় কাতরতা, ধারাবাহিক ভাবে
মানবিক সহায়তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা- এ সবই আন্তর্জাতিক আইনের
চরম লংঘন।’ দৃঢ়তার সঙ্গে ওবামা আরও বলেন,
‘এই নৃশংসতা দায় একমাত্র আসাদ
সরকারের এবং তার মিত্র রাশিয়া ও ইরানের। তাদের হাতে রক্ত লেগে আছে এবং
নৃশংসতা তাদের হাতেই ঘটেছে।’ আলেপ্পোয় নিষ্ঠুরতার জন্য ব্যক্তিগতভাবে
ওবামার নৈতিক দায় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে সব
সময় দায়ী ভাবি। যখন স্নাইপারের গুলিতে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়, আমি দায়বোধ
করি। যখন লাখ লাখ মানুষ নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয় তখনও দায়বোধ করি। দক্ষিণ
সুদানে যেসব হত্যার ঘটনা ঘটছে অথচ খবরে আসছে না তার জন্যও আমার দায়বোধ
রয়েছে।’ ওবামা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এমন কোনো
মুহূর্ত ছিল না যখন আমি দায়বোধ করিনি।’ কিন্তু এরপরও সামরিক কর্মকর্তা,
ত্রাণ সংস্থা, কূটনীতি ও সমালোচকদের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকেও কোনো সমাধানে আসতে
ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওবামা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভেবেছি আমাদের
সিদ্ধান্তই সঠিক। কিন্তু এত সহজেই তা সম্ভব হয়নি। আমি সত্যিই খুব দুঃখিত।’

No comments:
Post a Comment