পটুয়াখালী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক প্রফেসর
ড. হারুনুর রশিদ ও প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা জামান সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি
হয়ে আছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত বাণিজ্য,
নিয়োগ বাণিজ্যসহ সব অনিয়ম নিয়ন্ত্রিত হয় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তারা
নীলদলের নিয়ন্ত্রণ করেন সুকৌশলে। এ অবস্থায় আওয়ামী বলয়ে বিএনপি-জামায়াতের
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জানা গেছে, প্রফেসর ড. হারুন
অর রশিদ বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান
ওমরের ঘনিষ্ঠজন। তিনি ভারপ্রাপ্ত ভিসি থাকাকালে বিএনপি নেত্রী নওরোজ জাহান
লিপিসহ ১৮ জন বিএনপি জামায়াত কর্মীকে চাকরি দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি ইতিপূর্বে ভারপ্রাপ্ত ভিসি থাকার সময় বিএনপির শিক্ষক নেতা
মোহাম্মদ কবিরুল ইসলামের বরখাস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতে নামমাত্র কমিটি
গঠন করে তাকে বাঁচিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড. হারুণ অর রশিদের বিশ্বস্ত
সহচর প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্যে তার
একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগে তিনি তার ভাইয়ের ছেলে মো. বশির
উদ্দিনকে আইএ পাসের সার্টিফিকেট দিয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেন।
কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে ওই পদের জন্য কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা চাওয়া হয়েছিল।
পবিপ্রবির ইতিহাসে এই প্রথম কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে নিয়োগ দেয়া
হয়। এছাড়াও তিনি চলতি বছর সর্বশেষ বিতর্কিত নিয়োগে আরও ১২ কর্মকর্তাকে
বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিয়োগ কমিটির
অন্যতম সদস্য। এর আগে ২০০১-০৬ এর বিএনপির সময়কালে তিনি ছিলেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্তাকর্তা। বিএনপির আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদের সঙ্গে তার
অত্যধিক সখ্যতার কারণে তিনি তখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।
তৎকালীন সময়ে বিএনপির প্রতিটি অনুষ্ঠানে ছিল তার সরব উপস্থিতি। এছাড়াও
মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে রয়েছে শিশু নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ। ২০১৩ সালের
১০ মার্চ তুচ্ছ ঘটনায় পবিপ্রবি অধিনস্থ সৃজনি বিদ্যানিকেতনের ১০ম শ্রেণীর
দশ ছাত্রকে মাথায় ইট রেখে অমানবিক শাস্তি প্রদান করেন তিনি। এই বিষয়ে
দৈনিক যুগান্তরসহ অন্যান্য পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। ১৩
মার্চ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। কিন্তু
প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশিদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করিয়ে নামে
রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। এ বিষয়ে প্রফেসর ড. হারুনুর রশিদ বলেন, নাসিমের
নির্বাচনী প্রচারণায় থাকলেও তিনি আমার সৎ ভাই। তদন্ত বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি
বলেন, আমি এবিএম সাইফুলের বিষয়ে সঠিক রিপোর্ট দিয়েছি। বিএনপির অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণ করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা
জামান বলেন, আমি একজন ভালো মানুষ। আমি এগুলো কিছু জানি না।

No comments:
Post a Comment