Tuesday, December 6, 2016

বোলিংয়ে শফিউল ব্যাটিংয়ে তামিম

বিপিএলের চলতি আসরের প্রথম ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এরপর কয়েকটি ম্যাচে রান পাচ্ছিলেন না। সর্বশেষ ম্যাচেও তিনি শূন্য রানে আউট হয়েছেন। কিন্তু বিপিএলের গ্রুপপর্ব শেষে ব্যাটিংয়ে সবার উপরে রয়েছেন দেশসেরা এই বাঁ-হাতি ব্যাটসমান। মাঝে টানা তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১২ ম্যাচে পাঁচটি ফিফটি রয়েছে তামিমের। ৪২.৫০ গড়ে তার রান ৪২৫। শফিউল ইসলামের বোলিং দেখে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। এবার বিপিএলে নিজেকে মেলে ধরেছেন খুলনা টাইটানসের এই ডান-হাতি পেসার। ১২ ম্যাচের ১১ ইনিংসে বোলিং করে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট। গ্রুপপর্বে ১৮ উইকেট রয়েছে চিটাগং ভাইকিংসের আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবীরও। তিনি বোলিং করেছেন ১২ ইনিংসে। ব্যাটে-বলে এবারের আসরে দেশী খেলোয়াড়রাই দাপট দেখাচ্ছেন। টুর্নামেন্টে ৪২টি ম্যাচ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি হয়েছে মাত্র একটি। বরিশাল বুলসের বিপক্ষে রাজশাহী কিংসের সাব্বির রহমান ৬১ বলে করেন ১২২ রান। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস মোহাম্মদ নবী (৮৭*) ও মুশফিকুর রহিমের (৮০*)। একটি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেও শেষদিকের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারেননি সাব্বির। ১২ ম্যাচে তার রান ২৯৭। তামিম ইকবালের কাঁধেই চিটাগংয়ের ব্যাটিং ভাগ্য ঝুলে থাকে। ১১৬.৪৩ স্ট্রাইক রেটে এখন পর্যন্ত তার রান ৪২৫। ৫৬ রান কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৩৬.৯০ গড়ে তার রান ৩৬৯। এক ম্যাচ কম খেলা রংপুর রাইডার্সের আফগান ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদের রান ৩৫০। এছাড়া বরিশাল বুলসের মুশফিকুর রহিম ৩৭.৮৮ গড়ে করেছেন ৩৪১ রান। মাত্র আট ম্যাচ খেলে ৩৩৪ রান করে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ক্যারবীয় ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। দেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভালো করেছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের মেহেদি মারুফ (৩৩২), রংপুুরের মোহাম্মদ মিঠুন (৩২০), রাজশাহীর মুমিনুল হক (২৯৮), ঢাকার মোসাদ্দেক হোসেন (২৯১)।
গ্রুপপর্বে সর্বোচ্চ ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন মেহেদি মারুফ। এদিকে প্রথম আট ম্যাচে বোলিংয়ে শীর্ষে ছিলেন ঢাকার পেসার মোহাম্মদ শহীদ। কিন্তু ইনজুরির কারণে তিনি পরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে যৌথভাবে উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মোহাম্মদ নবী ও শফিউল ইসলাম। দু’জনই সমান ৪১ ওভার করে বোলিং করে সমান ১৮টি করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ১৭টি করে উইকেট রয়েছে দুই বিদেশী- রংপুরের শহীদ আফ্রিদি ও ঢাকার ডুয়ানে ব্রাভোর। খুলনার আরেক পাকিস্তানি জুনায়েদ খান উইকেট নিয়েছেন ১২ ম্যাচে ১৬টি। এছাড়া মোহাম্মদ শহীদ আট, তাসকিন ১০ এবং রুবেল হোসেন ১২টি ম্যাচ খেলে পেয়েছেন সমান ১৫টি করে উইকেট। ম্যাচে পাঁচ উইকেটের কীর্তি আছে তিনজনের। রাজশাহীর আফিফ হোসেন ২১ রানে ও আবুল হাসান ২৮ রানে এবং চিটাগংয়ের তাসকিন আহমেদ ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। ইনিংসে চারটি করে উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি, শফিউল (দু’বার), সোহেল তানভীর, জুনায়েদ খান ও মোহাম্মদ নবী। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের জুটি ডেভিড মালান ও শাহরিয়ার নাফীসের। চিটাগংয়ের বিপক্ষে বরিশাল বুলসের এই দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় উইকেটে ১৫০ রান করেন। এছাড়া ১০০ বা তার চেয়ে বেশি রানের জুটি হয়েছে ছয়টি। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আটটি করে ক্যাচ ধরেছেন জুনায়েদ খান ও নাসির হোসেন। এছাড়া লিটন কুমার দাস ১৭টি এবং কুমার সাঙ্গাকারা ১৬টি করে ডিসমিসাল করেছেন।

No comments:

Post a Comment