Sunday, December 25, 2016

সবজি বিক্রেতাও টার্গেট ছিল কিশোর জঙ্গি আদরের

জঙ্গি তানভীর কাদের ওরফে শিপারের ছেলে রাশেদ ওরফে আদরের (১৪) সঙ্গে কিছুদিন আগে পরিচয় হয় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা কিশোর জনি ইসলামের। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আদরের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে তার। শুরু হয় বাসায় যাওয়া-আসা। কিশোর জনির মগজধোলাই শুরু করে আদর। জনির ভাষায়, ‘আদর খুবই রাগী ছিল। খেলার মাঝে রেগে যেত এবং আমাকে ছাদ থেকে ফেলা দেয়ার হুমকি দিত।’ জনি জানান, ওই বাসায় (আদরের বাসা) থাকা বিভিন্ন অস্ত্র ও গ্রেনেড দেখিয়ে আদর জনিকে বলেছিল, এসব দিয়ে জিহাদ করতে হবে। আমি অস্ত্র চালাতে পারি, তুমি অস্ত্র চালানো শিখবে? এছাড়াও জনিকে আল্লাহর পথে জিহাদের আহ্বান জানিয়ে আদর বলেছিল, জিহাদের পথে আসো, এটা আল্লাহর পথ। এ পথে এলে মানুষ মেরে ফেলতে হবে। বিনিময়ে জান্নাত পাওয়া যাবে। রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা অভিযানে নিহত রাশেদ ওরফে আদর সম্পর্কে কিশোর জনি এসব তথ্য জানায়।জনি ইসলাম যুগান্তরকে জানায়, স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের দোকান রয়েছে তাদের। জনি বলে, আশকোনার জঙ্গি আস্তানার পাশেই ভাড়া বাসায় মায়ের সঙ্গে থাকি। অল্প কয়েক ক্লাস পড়াশোনার পর বাবা না থাকায় সংসার চালাতে সবজি বিক্রি শুরু করি। এ সবজির দোকানেই আদরের সঙ্গে ২-৩ মাস আগে পরিচয় হয় আমার। তবে চলতি মাসের ১৬-১৭ তারিখে আদরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জনি আরও জানায়, তাকে খেলতে যাওয়ার জন্য তাদের বাসায় যেতে বলত আদর। জনিও তাদের বাসায় যায় এবং ছাদে ব্যাডমিন্টন খেলে। ২০ ডিসেম্বর আদর জনিকে বলে, ইসলামের পথে আসো। এ পথে এলে মানুষ মেরে ফেলতে হবে। জবাবে জনি বলে, মানুষ মারতে হবে, এটা আবার কোন ইসলাম। জবাবে আদর বলেছিল, এ পথে না এলে তুমিই তোমার জীবন রাখতে পারবা না। জনি যতবারই ওই বাসায় গেছে ততবারই দুইজন মহিলা ও ওবায়দুল (১০) নামে এক ছেলেকে দেখেছে।
জনি বলে, আদর আমাকে বাসার ভেতরে খেলনা পিস্তল দিয়ে গুলি করে দেখাত। বলত, সে পিস্তল চালাইতে পারে। আদর বলেছিল, পিস্তল, বোমা তৈরি করবা নাকি? এ পিস্তল নিয়া আমরা জিহাদে যাব। জনি জানায়, আদরের সঙ্গে শুক্রবার বাসার সামনের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যায় জনি। জনি আরও জানায়, আদর তাকে মোবাইল ফোনে ও নিজের মুখে ওয়াজ, ইসলামের গান শোনাত। ওই বাসায় যাওয়া-আসার মাঝে কয়েকবার সাদা রঙের প্রাইভেটকার আসতে দেখেছে জনি। জনির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকে সে। তার বাবা নেই। তার মা ফাতেমা গার্মেন্টে চাকরি করে। মায়ের সঙ্গে ৬৭/৫৩নং বাসায় থাকে জনি। আদরদের বাসা নম্বর ৫০/৫৩। এ বাসার নিচতলায় থাকত তারা। প্রসঙ্গত, আশকোনার বাসাটিতে পুলিশের অভিযান চলার একপর্যায়ে দুই শিশুকন্যাসহ দুই নারী বেরিয়ে আসেন। এরপরও ভেতরে আরও তিনজন থেকে যান। তাদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাতে থাকেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হননি। এরপর জঙ্গি মুসার স্ত্রী শাকিলা মেয়ে সাবিনাকে নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যান, শিশু সাবিনাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ না করে আদর বাসার ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। এ সময় পুলিশও গুলি চালায়। একপর্যায়ে আদর নিহত হয়।

No comments:

Post a Comment