যশোরে
কথিত গোলাগুলিতে ইউসুফ (৩২) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া
গেছে। শনিবার মধ্যরাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০
শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের
চিকিৎসক শামীমা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে গুলিবিদ্ধ
ইউসুফের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, আটকের পর পুলিশ পাঁচ লাখ টাকা
দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় ইউসুফের পায়ে গুলি করা হয়। নিহত ইউসুফ যশোর
শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার আবদুল লতিফের ছেলে। পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের
টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দু’দল সন্ত্রাসীর বিরোধ-গুলিবিনিময়ে ইউসুফ গুলিবিদ্ধ
হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাই ওমর শরীফ
রাজা জানান, কোতয়ালী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের
চাঁচড়া এলাকা থেকে ইউসুফ ও সোহেলকে আটক করে। সেই এসআইয়ের নামও ইউসুফ। পরে
৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আটক সোহেলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর ইউসুফকে ছাড়াতে
শনিবার সন্ধ্যায় এসআই ইউসুফ পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না
হওয়ায় শনিবার রাতে গোলাগুলির নাটক সাজিয়ে ভাইয়ের পায়ে গুলি করে আহত করেছে।
পরে ইউসুফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রাজা নিজেও পুলিশের হুমকিতে
জীবনাশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেন। রোববার দুপুরে শহরের ঘোপ সেন্টাল রোডে
ইউসুফের বাসভবনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চলছে শোকের মাতম।নিহতের মা ফাতেমা
বেগম বলেন, আমার ছেলে কোনও সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমার ছেলে
পরিবহন শ্রমিক। পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে না
পারায় আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আর্তনাদের সুরে ফাতেমা বেগম বলেন, আল্লাহ
যারা আমার বুক খালি করেছে, তারা বিচার তুমি করো।’ তবে যশোর কোতোয়ালি মডেল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, শনিবার মধ্যরাতে শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় ছিনতাইয়ের টাকা
ভাগাভাগি নিয়ে দু’দল সন্ত্রাসীর বিরোধ-গুলিবিনিময়ে ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হন।
মপুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টার দিকে
তার মৃত্যু হয়। ওসি আরও জানান, নিহত ইউসুফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় ৫টি
মামলা রয়েছে। সম্প্রতি ঘোপ এলাকা থেকে একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মীকে কুপিয়ে ৫
লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত এই ইউসুফ।

No comments:
Post a Comment