Saturday, January 7, 2017

তদন্তে নাশকতার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেছেন, গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে আগুনের ঘটনা তদন্তে নাশকতার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। আলী আহমেদ খান বলেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণেই নাশকতার প্রসঙ্গ এসেছে। আগুন লাগার আগে ভবনে কোনো রাসায়নিক ছিটানো হয়েছিল কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই সব স্পষ্ট হবে। মহাপরিচালক আরও বলেন, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে সময়মতো জানানো হয়নি। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর খবর দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পানির স্বল্পতা ছিল। পরে পাশের লেক থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়। আলী আহমেদ খান জানান, ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক টার্গেট ছিল আগুন যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষোভকে সম্মান দেখিয়ে তিনি বলেন,
কাঁচা ও সুপার মার্কেট ধসে পড়ার কারণে ওই মার্কেটের ভেতরে ঢোকা যায়নি। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশি সময় লেগেছে। পাশের পাকা মার্কেটটিকে ঝুঁকিমুক্ত উল্লেখ করেন তিনি। জানান, মার্কেটে আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে ৪-৫টি অকেজো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন আলী আহমেদ খান। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ২ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে আগুন লাগে। রাত ২টা ২৮ মিনিটে ভাটারা থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে আগুন লাগার খবর দেয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কেটের তালা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পায় এবং তারাই তালা ভাঙে। শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণের কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে মার্কেটের সামনে সমাবেশ করেছেন। পাকা মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানই ছিল বন্ধ। ভেতরে চলছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
তবে দুপুরের পর মার্কেটের পশ্চিম অংশের বেশকিছু দোকান খোলা হয়। এদিন এসব দোকানে কোনো ক্রেতা চোখে পড়েনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে আলোচনা শোনা গেলেও যেসব ব্যবসায়ী ভাড়ায় দোকান চালাচ্ছিল তাদের ক্ষতিপূরণের কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা সমাবেশ থেকে সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানান। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তারা ঋণ মওকুফের দাবি জানান। আগুনকে সরাসরি নাশকতা উল্লেখ করে কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারম্যান শের মোহাম্মদ বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং মেট্রো গ্র“প এ নাশকতার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে আমরা আস্থা রাখছি না। সঠিক তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ করতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে সাবেক এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের বাসায় মিটিংও হয়েছিল।’ ডিএনসিসি দোকান মালিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক এসএম তালাল রেজভী জানান, ‘সিটি কর্পোরেশন আমাদের অভিভাবক। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।’ তিনি জানান, মার্কেটের অক্ষত অংশের দোকানপাট শুক্রবার থেকেই চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার কাজ চালানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পাশের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বলা যাবে। ভবন দু’টিকে ঘিরে খুব দ্রুত নতুন করে পরিকল্পনা নেয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি জানান, যে ভবনটি ধসে পড়েছে সেটি ২০১০ সালেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। তারপরও দুই তলার ওপর তিন-চারতলা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সেখানে সিলিন্ডার রাখা হয়েছিল। সেখানে রান্নাঘর বানানো হয়েছিল। ৩-৪ জন লোক (নাম বলেননি) অবৈধভাবে দোকানপাট করেছিল। তারা সিটি কর্পোরেশনকে পরিককল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে দেয়নি। তাদের কারণেই আজ বড় বিপর্যয় হয়েছে। নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করে আনিসুল হক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দুঃখ আমি বুঝি। আমরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করব। নিজেদের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা করব না। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মার্কেটটি কবে খোলা হবে সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত দেব দু’দিন পর। তবে ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে যেকোনো সময় দোকান খুলতে পারেন।’

No comments:

Post a Comment