জাতিসংঘ
থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির পার্লামেন্টের
নিুকক্ষে একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। অনেকটা গোপনে ৩ জানুয়ারি নিুকক্ষ
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন আলাবামার রিপাবলিকান দলের
কংগ্রেসম্যান মাইক রজারস। বিলটিতে সমর্থনকারীরা মনে করেন, জাতিসংঘে থাকার
কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। খবর বিজনেস
ইনসাইডারের। ‘আমেরিকান সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার আইন-২০১৭’ শিরোনামে এ
বিলটিতে দুই মাসের মধ্যে সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বৈবভাবে সদস্যপদ
প্রত্যাহার, নিউইয়র্ক থেকে এটির (জাতিসংঘ) সদরদফতর সরিয়ে নেয়া এবং বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থাতে দেশটির সব ধরনের অংশগ্রহণ ছিন্ন করার আহ্বান জানানো
হয়েছে। কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বিলটি কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক
কমিটিকে রেফার করা হয়েছে। বিলটিতে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার
সম্মতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন- নর্থ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান দলের
আইনপ্রণেতা ওয়াল্টার জনস, আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি
অ্যান্ডি বিগস, মিসৌরির প্রতিনিধি জ্যাসন স্মিথ, ক্যান্টাকির থমাস মেসি,
টেনেসির জন ডকান এবং ফ্লোরিডার আইনপ্রণেতা ম্যাট গেজ। অ্যান্ডি বিগস
বিলটিতে সমর্থনের বিষয় স্বীকার করে সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ
থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার বিলে আমি সমর্থন জানিয়েছি। কারণ আমি মনে
করি, সংস্থাটিতে থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে থাকা-না থাকা নিয়ে আমাদের দূরদৃষ্টি দেয়া দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। স্বার্থকে
জলাঞ্জলি দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে থাকার কোনো অর্থ নেই। এমন বাস্তবসম্মত একটি
প্রস্তাব আনায় আমি মাইক রজারসের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ তবে বিলের বিষয়ে রজারস ও
তার অন্য সমর্থনকারীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন কংগ্রেসে আনা
বিলটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী পরিচালিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য ও অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারেরও আহ্বান
জানানো হয়েছে বিলটিতে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড
ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান সদস্যদের প্রস্তাবিত বিলটিতে যে ভাষা ব্যবহার করা
হয়েছে তা খুবই জোরালো। বিলটি পাস হতে হলে ব্যাপক সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
২০১৫ সালেও রজার্স এমন একটি বিল কংগ্রেসে উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় সমর্থনের
অভাবে পাস করাতে ব্যর্থ হন।

No comments:
Post a Comment