Monday, January 2, 2017

সংশোধন হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস স্থাপন প্রকল্প

গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৪২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, তিন বছর বাড়ছে বাস্তবায়ন মেয়াদও। এর পেছনে ৮টি কারণ তুলে ধরেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৮৮৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বর্তমানে ৩৩৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত জুন মাসে বাস্তবায়ন মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্পের কাক্সিক্ষত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকল্পভুক্ত উপজেলার মানুষ। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পভুক্ত উপজেলাগুলোতে বিদ্যমান হালকা ও মাঝারি ধরনের শিল্প কারখানা, সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন অফিস, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদি নানা ধরনের অবকাঠামো ও জনগণের জানমাল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্পটি সংশোধনের যেসব কারণ তুলে ধরেছে সেগুলো হচ্ছে, প্রকল্পের অনুমোদিত বাস্তবায়নকালের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। পিডব্লিউডির রেট সিডিউল ২০১১ সালের পরিবর্তে ২০১৪ সালের করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নিচু জমিতে ভূমি উন্নয়ন ও মাটির ভার বহনের ক্ষমতা কম হওয়ায় ফাউন্ডেশন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি।
বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বি-ক্যাটাগরির ভবনের ফ্লোর এরিয়া বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অনুমোদিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত চারটি ফায়ার স্টেশন যথা- রাজশাহীর বাগমাড়া, রাঙ্গামাটি জেলার বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়ির পরিবর্তে নতুন করে রাজবাড়ীর কালুখালী, বরগুনার তালতরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এবং চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের নগরায়ন বিবেচনায় উপজেলাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব উপজেলা সদরে হালকা ও মাঝারি ধরনের শিল্পকারখানা, বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ভবন, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন মূলত উপজেলা শহরগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে। ফলে এখানে জনবসতিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অবকাঠামো ও জনগণের জানমাল অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ দেশ গঠনে ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উপজেলা সদরে ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন লাভ করে। বর্তমানে নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, পাঁচটি এ ক্যাটাগরি এবং ১৫১টি বি ক্যাটাগরির ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন, ৫২ দশমিক ৮৩ একর জমি অধিগ্রহণ (প্রতি স্টেশনের জন্য ৩৩ শতক করে) সাইট উন্নয়ন, এ-টাইপ ৯৮৮ দশমিক ৮৫ বর্গমিটার চার তলা ভিতের ওপর তিন তলা ফাংশনাল ভবন নির্মাণ, বি টাইপ ৬৯৭ দশমিক ৫১ বর্গমিটার তিন তলা ভিতের ওপর তিন তলা ফাংশনাল ভবন নির্মাণ, ২২ ধরনের ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট ও ২১ ধরনের ফায়ার ফাইটিং এক্সেসরিজ সংগ্রহ করা, ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের এক্সটারনাল ওয়াটার সাপ্লাই, ৬৪টি স্টেশনের গ্যাস কানেকশন, রান্নাঘর, সীমানা প্রাচীর, সারফেস ড্রেন, বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম, রাস্তা নির্মাণ, দুটি জিপ সংগ্রহ, আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৫১৫ কোটি ৭৭ লাখ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪৫৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চাহিদা দেয়া হয়েছে।

No comments:

Post a Comment