মিয়ানমারের
রাখাইন রাজ্যে সেনাবিহনীর অভিযানে অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম
শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ এ তথ্য প্রকাশ করার
পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সে বিষয়ে
আলোকপাত করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার গ্রুপগুলো বিষয়টি নিয়ে
সোচ্চার রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার বরাবরই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। এদিকে
জাতিসংঘের বিশেষ দূত হয়ে আসা ইয়াঘি লিকে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন অংশ
ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। তবে তার পরিদর্শন এলাকা ছিল সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত।
এরই মধ্যে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে,
২২ হাজার নতুন
রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের
মানবিকবিষয়ক সমন্বয় দফতর জানায়, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৫ হাজারের মতো
রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার এলাকার নিবন্ধিত ক্যাম্পে
আশ্রয় নিয়েছে। গত তিন মাস আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বর্ডার পুলিশ
রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ সীমানায় রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সদস্যরা তাদের
ওপর নিজ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিচালিত বর্বর নির্যাতনের
বর্ণনা দেন। তারা বলেন, হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তাদের দেশ
ছাড়া হতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দেশটির গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী অং সান
সুচির নতুন সরকার বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষত মুসলিম প্রধান দেশ
মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের কঠোর সমালোচনায় বেকায়দায়
পড়েছে মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা শুরু থেকেই অস্বীকার
করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তারা এসব অভিযোগকে বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছে।
পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে তদন্ত পরিচালনা
করছে। এ কমিশন গত সপ্তাহে তাদের অন্তবর্তী রিপোর্ট পেশ করে। এতে উল্লেখ করা
হয়, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা ও ধর্মীয় নিপীড়নের তেমন
কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি ধর্ষণের মতো ঘটনারও তেমন অভিযোগ পায়নি কমিশন।

No comments:
Post a Comment