দেশের
গোয়েন্দাদের উপর ফের চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর সেই রাগ প্রকাশের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন টুইটারের মতো সোশ্যাল
নেটওয়ার্কিং সাইটকে। মার্কিন নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এফবিআই,
সিআইএ-র মতো গোয়েন্দা ও চর সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, ট্রাম্পকে
জেতানোর পিছনে রাশিয়ার পুতিন সরকারের একটা বড় অংশের মদত রয়েছে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, ভোটের আগে হ্যাক করে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি
ক্লিন্টন ও তার দল সম্পর্কে অস্বস্তিকর বেশ কিছু তথ্য উইকিলিকসের মাধ্যমে
ফাঁস করেছিল রাশিয়া। যা পরবর্তীকালে ট্রাম্পকে বড় সুবিধে করে দেয়। প্রথমে
এই হাস্যকর বলে অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও পরে এ বিষয়ে সুর নরম করেছিলেন ট্রাম্প।
জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে তথ্য
জানতে চাইবেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ইলেক্টকে সময় দিয়েও সেই মতো
কথা রাখতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ক্ষিপ্ত ট্রাম্প তাই রেগে টুইট
করেছেন, ‘‘সম্ভবত একটা মামলা দাঁড় করাতে ওদের (গোয়েন্দা প্রধান) আরো একটু
বেশি সময় লাগবে।
অদ্ভূত।’’ গোয়েন্দারা অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ অস্বীকার
করেছেন। তারা জানাচ্ছেন, আগামী শুক্রবারই ট্রাম্পের সঙ্গে কথার বলার জন্য
সময় বাছা হয়েছিল। একটি মার্কিন দৈনিকে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
সম্ভবত তারিখ ও সময় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছু ভুল
বোঝাবুঝি হয়েছে। এর মধ্যেই উইকিলিকস প্রধান জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ আবার
সংবাদমাধ্যমে ফের দাবি করেছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলোর পিছনে রাশিয়ার সরকার বা
শাসক দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তা হলে কোথা থেকে পাওয়া গেল ডেমোক্র্যাটদের
হাজার হাজার ফাঁস হওয়া ই-মেইল? এ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি অ্যাসাঞ্জ।
বরং উইকিলিকসের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, ‘‘ওবামা প্রশাসনের কেউ যদি
দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করে দিতে চায়, তাকে ধরা বা তার পরিচয়
প্রকাশের জন্য কুড়ি হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করছি আমরা।’’ হিলারি ও
তার দল সম্পর্কে যে যে তথ্য এত দিন পর্যন্ত উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়েছে,
সেগুলি সব ক’টিই খাঁটি বলে দাবি করেছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে সোশ্যাল সাইটে
প্রেসিডেন্ট ইলেক্টের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ
ভালো চোখে নেননি অনেকেই। এ নিয়ে সমালোচনাও চলছে প্রকাশ্যে। মার্ক ওয়ার্নার
নামে এক সেনেটর ট্রাম্পকে বিঁধে টুইটারেই লিখেছেন, ‘‘দেশের গোয়েন্দা
প্রধানদের সম্পর্কে আর একটু বেশি সম্মান আশা করেছিলাম।’’

No comments:
Post a Comment