Monday, January 2, 2017

কক্সবাজারে শত কোটি টাকার বাণিজ্য

শনিবার সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ২০১৬ সাল। রোববার উদিত হয়েছে ২০১৭ সালের নতুন সূর্য। ২০১৬কে পেছনে ফেলে সূর্যের শেষ প্রস্থান দেখতে বছরের শেষ সপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার সকাল থেকে কক্সবাজার সাগরমুখী মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষবরণ ও বিদায়কে উপলক্ষ করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় বর্ণিল অনুষ্ঠানের। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে ইতিহাসের ধারক হতে সৈকত নগরীতে অবস্থান নেন লাখো পর্যটক। খালি ছিল না শহরের অর্ধসহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজের কক্ষ। থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে কয়েকদিন থেকে তিলধারণের ঠাঁই নেই বললেও চলে কক্সবাজারে। পর্যটকে টইটম্বুর পর্যটন রাজধানীর সর্বত্র। আর এ আশানুরূপ পর্যটক উপস্থিতি কক্সবাজারে হয়েছে শত কোটি টাকার বাণিজ্য। আবাসন, ভোগ-বিলাস, পরিবহন, ইন্টারটেইনমেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায় এ বাণিজ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।
তিনি বলেন, হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও রেস্ট হাউস মালিক কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, কক্সবাজারে অর্ধসহস্রাধিক আবাসন সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাখো মানুষের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা যায়। সৈকত তীরে আসা ভ্রমণপিপাসুদের আহার সংস্থানে রয়েছে অভিজাতসহ নানা ধরনের কয়েকশ’ রেস্তোরাঁ। যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০-১৫ হাজার ইজিবাইক, ৫-৮ হাজার রিকশা ও উন্নত সেবার লক্ষ্যে রয়েছে অর্ধসহস্রাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং কয়েকশ’ মাইক্রোবাস। বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে তিন দিন ধরে সৈকতে অবস্থান করা লাখো পর্যটক এসব পর্যটন সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করেছেন। সব মিলিয়ে গড়ে দৈনিক ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। তার কথার সায় দিয়ে ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ভ্রমণপিপাসু সেন্টমার্টিন গেছেন। জাহাজ অনুসারে টিকিটের দামের তারতম্য বিবেচনা করে গড়ে প্রতি টিকিট এক হাজার টাকা হলে শুধু টিকিট মূল্যও এসেছে প্রায় কোটি টাকা। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান কোম্পানীর মতে, সব দিক দিয়েই ব্যবসা ভালো হয়েছে, এটা মানতে হবে। কিন্তু শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ব্যবসা করতে গেলে কিছু কিছু কথা খোলাসা করে বলা যায় না বলেও রসিকতা করেন তিনি। তবে পর্যটনে মন্দাভাব কেটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৈকতের তারকা হোটেল দ্যা কক্স টুডে’র রুম ডিভিশন ম্যানেজার অং ছা চিং চাক বলেন, ভালো বিজনেস দিয়েই বছরের শুরুটা হয়েছে। এটি অল্প-অল্প করেও যদি অব্যাহত রাখা যায়, তবে পর্যটন শিল্পে নির্ভরতা বাড়বে। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনসহ ভ্রমণে আসা পর্যটকে ভরপুর রয়েছে কক্সবাজার। গত কয়েক দিনের পর্যটক পরিস্থিতি একই রকম রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। এতে বাণিজ্য ভালো হওয়ারই কথা। সরকারের ইচ্ছা কক্সবাজারকে পর্যটনের প্রধান গন্তব্য হিসেবে তৈরি করা। বর্তমান বাণিজ্যিক পরিস্থিতি বলে দেয়, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিকই রয়েছে। প্রশাসন এতে বেজায় খুশি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, বড়দিনের ছুটিসহ থার্টিফার্স্ট নাইটের লোকারণ্য কক্সবাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিশ্চিদ্র ছিল। ফলে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হোটেল-মোটেল জোন ও শহরের প্রধান এবং উপসড়কে ট্রাফিক জ্যাম ছিল ভোগান্তির পর্যায়ে।

No comments:

Post a Comment