Sunday, January 29, 2017

সার্চ কমিটির ওপর পূর্ণ আস্থা আছে

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ কমিটিতে যারা আছেন তারা সবাই সমাজে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমার বিশ্বাস, তারাও আমাদের মতো দেশকে নিয়ে ভাবেন, দেশের মঙ্গল চান। কাজেই শুরুতেই সার্চ কমিটির সদস্যদের প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই ভালোভাবে নিতে পারি না। সবকিছুতে সমালোচনা করাই যেন আমাদের অভ্যাস। এটি এক ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা। এ মানসিকতা আমাদের সমাজটাকে দিন দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমরা ভালো কিছু বলা, ভালো কিছু আশা করাটা ভুলেই গেছি।’ নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়োগ- এ জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন, আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শনিবার যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। বনানী কার্যালয়ে দেয়া এ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘সার্চ কমিটি নাম চাইলে আমরা নাম দেব। আমাদের সে প্রস্তুতি নেয়া আছে।’ এরশাদ বলেন, ‘কেউ ভালো কাজ করতে চাইলে পদে পদে বাধা দেয়া হয়। অহেতুক বিতর্ক জুড়ে দিয়ে ভালো কাজকেও মন্দ বলে চালানোর চেষ্টা হয়। সামনে নির্বাচন, এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কাউকে না কাউকে কমিশনের দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু এর আগেই আমরা বিতর্ক জুড়ে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি মাঠে-ময়দানে নেই। একটি কর্মসূচি দিয়েও তারা তা পালন করতে পারে না। এ অবস্থায় তাদের উচিত আগে ঘর গোছানো, তা না করে নানা ইস্যুতে বিতর্ক জুড়ে দিয়ে লাভ হবে না।’
সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের মানুষ মনে করে আগামী নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতো হবে না। সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হবে। আর আগামী নির্বাচন কমিশনও রকীবউদ্দিন মার্কা হবে না। যারা আসবেন তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন।’ এরশাদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস, সরকারও সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তাই বিএনপির উচিত অহেতুক বিতর্ক না করে নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হয় সে লক্ষ্যে কাজ করা।’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন। এদের হাতে অনেক ক্ষমতা। তারপরও সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে মানুষ মরেছে, প্রাণ ঝরেছে। টাকার খেলা হয়েছে। কিন্তু তারা চোখ বুজে ছিল। তাই মানুষ চায় মেরুদণ্ডসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন। যারা আইনের প্রয়োগ করতে পারবে। ভোটারের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, সার্চ কমিটি তেমন লোকই খুঁজে বের করবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেমন বিলীন হওয়ার পথে, তাই বলে আওয়ামী লীগও যে খুব শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে, তা ভাববারও কোনো কারণ নেই। ক্ষমতায় থাকলে প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় না। আগামী নির্বাচনে তারা সহজভাবে উতরে যাবে- এমন ভাবনারও কোনো কারণ নেই।’ জাতীয় পার্টি পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমরা বসে নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামী নির্বাচনই হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।
তাই এ নির্বাচনে ভালো করতে চাই। ইতিমধ্যে অনেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। অনেকেই যোগ দিচ্ছে। আমরা ৩শ’ আসনেই প্রার্থী দেব। এককভাবেই নির্বাচন করব। জোটবদ্ধ নির্বাচন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই জোট করার কথা ভাবছি না। তবে জোট হবে কী হবে না, তা সময়ের ওপর নির্ভর করছে।’ তিনি বলেন, ‘যদি সরকার গঠন করতে নাও পারি, তাহলেও জাতীয় পার্টিই আগামীতে প্রধান বিরোধী দল হবে। এ জায়গা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা সম্মানিত ব্যক্তি : এদিকে বনানী কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে যারা আছেন, তারা সবাই সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। আশা করি, তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নাম প্রস্তাব করবেন।’ তিনি বলেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশন বিগত নির্বাচন কমিশনের মতো হবে না।’ বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বাগেরহাট জেলার কয়েকজন নেতাকর্মীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। কারণ, বিএনপি এখন আগের অবস্থানে নেই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে জনগণ দূরে সরে যাচ্ছে। সে কারণে মানুষ জাতীয় পার্টিতে যোগদান করতে চায়।
আগামী নির্বাচনে ৩শ’ আসনে প্রার্থী দেবেন দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘এটা আমার প্রতিশ্রুতি। এ কারণে সারা দেশের বিভিন্ন দলের নেতারা আমাদের দল থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ জানাচ্ছেন।’ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভ রায় বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতি। প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে যোগদানকারী মুশফিকুর রহমানকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করে এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। আমরা জেলে থেকেও নির্বাচন বয়কট করি নাই। নাসিক নির্বাচনে আমরা প্রার্থী দেই নাই, কারণ সেখানে আমাদের সংগঠন দুর্বল ছিল। সেখানে আমরা পাঁচ হাজার ভোট পেলে লজ্জায় পড়তাম। খুলনায় আমাদের এই প্রার্থী খুব শক্তিশালী, তাই আগামীতে সেখানে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেবে বলে জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

No comments:

Post a Comment