সিলেটের
জাফলংয়ে সরিষা ক্ষেতে শুরু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু চাষ। হলুদ বর্ণের
সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর মৌমাছির গুঞ্জন ও গুনগুনানি শুরে এলাকা মুখরিত
হয়ে উঠছে। প্রশিক্ষণ ছাড়া মধু চাষ শুরু করেন হাফিজ নিয়ামুল ইসলাম। তিনি
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মধু চাষের কৌশল শিখেন। চলতি বছরে ২০১৬সলের জুলাই
মাসে গাজীপুর থেকে রানী মৌমাছি নিয়ে পরীক্ষামুলক চাষ শুরু করেন বাড়ীর পাশে।
সেখানে সফল হন। এর পর শুরু করেন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এক পর্যায়
পার্শ্ববর্তী উপজেলাতেও চাষ করেন। এখন তিনি নিজ জেলা ছেড়ে সিলেটের
গোয়াইনঘাট উপজেলার পুর্ব জাফলং ইউনিয়নের র্পুব লাকেরপার গ্রামের সরিষা
ক্ষেতে মধু চাষ শুরু করেন। শনিবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায় মেঘালয় পাহাড়ের
পাদদেশে সীমান্তের ২কিঃমিঃ অদুরে প্রায় ৩০একর ভুমিতে স্থানীয় চাষীরা সরিষা
চাষ করেন। হুলুদ বর্ণের সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।
মৌমাছির গুঞ্জন আর গুনগুনানি শুরে মনে হচ্ছে ক্ষেতের মাঠে কোন রাখালিয়া ভাই
মনের আনন্দে বাশিঁতে সুর দিচ্ছেন। সবুজ শ্যামল মাঠে হলুদ বর্ণের সরিষা ফুল
যেন রাখাল গায়ের বধুদের হাতছানি দিচ্ছে। এযেন আরেক প্রাকৃতিক দৃশ্যের
অপরুপ লীলা ভুমি।
ছাষী ভাই সরিষা ক্ষেতের চুতুরপাশে মধু আহরণের বক্স সাজিয়ে
রাখছেন। প্রতিটি বক্সে মাত্র ১টা করে রানী মৌ-মাছি রয়েছে এবং মধু আহরণের
জন্য প্রায় ১৫ থকে ২০হাজার শ্রমিক মৌ-মাছি আসা যাওয়া করছে। মৌমাছির
গুগুনানি শুরে আশপাশ মুখরিত। এই খামারে ৫৬টি বক্স রয়েছে। প্রতিটা বক্স থেকে
৭ (সাত) থেকে ১০(দশ) কেজি পর্যন্ত মধু আহরণ করা হয় এবং স্থানিয়ভাবে
প্রতিকেজি মধুর দাম ১হাজর টাকা। কথা হয় খামারের মালিক মধুচাষী নেয়ামুলেলর
সাথে, তিনি বলেন আমি কোন প্রশিক্ষন নেইনি, তথ্য পৃযুক্তির মাধ্যমে মধু
চাষের বিভিন্ন নিয়ম ও কৌশল দেখি এবং সে অনুযায়ী কাজ কাজ (চাষ) শুরু করি। ১ম
গাজী পুর থেকে রানী মৌমাছি নিয়ে পরীক্ষা মুলক আমাার বাড়ীর পাশে নবীগঞ্জ
পৌরসভার ওসমানী রোডে চাষ শুরু করি। এক পর্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও
পার্শ্ববর্তী উপজেলায় চাষ করি। এখন জাফলংয়ে শুরু করছি। মধু চাষী নিয়ামুল‘র
প্রতিশ্রুতি মধু চাষে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলা।
কথা হয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিসুজ্জামান‘র সাথে,
তিনি বলেন গোয়াইনঘাটে এবার ১ম মধু চাষ শুরু হয়েছে। আমরা সকল ধরনের পরামর্শ ও
সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশারাখি নেয়ামুল ইসলাম লাভবান হবেন এবং
অণ্যান্য কৃষকরা উৎসাহিত হবেন।

No comments:
Post a Comment