বর্ণাঢ্য
আয়োজনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন
ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত
১১টায়) মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনে প্রধান বিচারপতি জন
রবার্টস ট্রাম্পকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্পের হাতে
ছিল আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিধন্য বাইবেল। এ সময় পাশে ছিলেন স্ত্রী
মেলানিয়া। শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্প। শপথের পর
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তিনি।
ভাষণে তিনি চরমপন্থী
ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের অঙ্গীকার করেন। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘আজ
থেকে, জনগণই যুক্তরাষ্ট্রের শাসক।’ বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান শুধু এক দলের কাছ
থেকে অন্য দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বরং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে জনগণের
কাছে অর্পণ।’ ট্রাম্পের ভাষণে ইতিবাচক অনেক কথা থাকলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও
অঙ্গভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তিনি আগের
অবস্থানেই আছেন। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও বহু আইনপ্রণেতা ও
বিশিষ্টজন ট্রাম্পের অনুষ্ঠান বর্জন করেন। ট্রাম্পের শপথপর্ব নজীরবিহীন
বিক্ষোভের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। অভিষেক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নেয়া হয় কঠোর
নিরাপত্তা। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি কার্যত একটি দুর্গে পরিণত হয়। খবর
সিএনএন, এএফপি ও রয়টার্সের। যুক্তরাষ্ট্র্র্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ৮ বছরের শাসনকাল শেষে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের স্বপ্ন
দেখানো ট্রাম্পের যুগ শুরু হল। কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক
অভিজ্ঞতাবিহীন ব্যবসায়ী ট্রাম্প আগামী ৪ বছর বিশ্বের একক পরাশক্তি
যুক্তরাষ্ট্র্র্রের কমান্ডার ইন চিফ থাকবেন। এ ধনকুবেরের নীতি-পদ্ধতি নিয়ে
ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। সব সমালোচনা-বিতর্ক-বিক্ষোভ সত্ত্বেও
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বরণ করতে ওয়াশিংটন ডিসিতে
আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার সকালে হোয়াইট হাউসের কাছে
সেইন্ট জন্স এপিসকোপাল চার্চে সকালের প্রার্থনায় অংশ নিয়ে দিন শুরু করেন
ট্রাম্প। এরপর তিনি ও তার স্ত্রী মেলানিয়া যান হোয়াইট হাউসে, বিদায়ী
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিদায়ী ফার্স্টলেডি মিশেলের সঙ্গে কফি খান। এরপর
মোটর শোভাযাত্রা করে নতুন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি ক্যাপিটলে আসেন।
ওবামা ও মিশেল তাদের সঙ্গ দেন। ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিমভাগে নতুন
প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের
পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাজনীতিবিদ, কংগ্রেসের সদস্য ও দলের শীর্ষ
নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ডেমোক্রেটিক দলের পরাজিত প্রার্থী সাবেক
পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সঙ্গে ছিলেন তার
স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। হিলারি ছাড়াও ডেমোক্রেট নেতা
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন। এছাড়া সাবেক
প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি
কার্টার, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও তার স্ত্রী লিনে, সাবেক ভাইস
প্রেসিডেন্ট ড্যান কোয়েল ও তার স্ত্রী ম্যারিলিনসহ আরও অনেকে সেখানে
উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সুরের মূর্ছনায় শুরু হয়
অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা। বেলা সাড়ে ১১টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের শপথ
পড়ান বিচারপতি ক্লেরেন্স টমাস। যুক্তরাষ্ট্র্র্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
রোনাল্ড রিগ্যানের বাইবেল হাতে নিয়ে পেন্স শপথ পড়েন।
শপথে
যা বললেন ট্রাম্প : ওয়াশিংটনে ঘড়ির কাঁটায় তখন শুক্রবার ঠিক দুপুর ১২টা।
ইংরেজিতে মাত্র ৩৫ শব্দের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয় নতুন প্রেসিডেন্টকে। এক
মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তা উচ্চারণ সম্পন্ন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইংরেজিতে ট্রাম্প যে শপথ পাঠ করেন তার অর্থ এরকম-‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে
শপথ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দফতর
পরিচালনা করব এবং সাধ্যের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের সংবিধান রক্ষা,
সংরক্ষণ ও প্রতিপালনে সচেষ্ট থাকব।’ আর এ শপথ বাক্য পাঠের মধ্যদিয়ে
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে
ট্রাম্প তার সমর্থকদের নিয়ে পেনসিলভানিয়া এভিনিউ ধরে শোভাযাত্রা করে হোয়াইট
হাউসে যান। এ সময় রাস্তার দু’পাশে ভিড় করে মানুষ নতুন প্রেসিডেন্টের
প্যারেড উপভোগ করেন। একই সময়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ট্রাম্পবিরোধীরা।
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ : মার্কিন ইতিহাসে এ প্রথম কোনো বিভক্ত শপথ অনুষ্ঠান থেকে নিজের যাত্রা শুরু করলেন ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতাদের অন্তত ৬০ সদস্য, বহু রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাসহ অনেক বিশিষ্টজন ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন। ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সংখ্যা বারাক ওবামার প্রথমবার অভিষেকে অংশগ্রহণকারীর অর্ধেক। এর মধ্যে দুই লাখের বেশি ছিলেন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারী। যুক্তরাষ্ট্র্র ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়। অভিষেক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ-বিশৃংখলা ঠেকাতে আইনশৃংখলা বাহিনী বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছিল। কম-বেশি ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের তিন বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নিরাপত্তার দেয়াল গড়ে তোলেন। সঙ্গে ছিল মাইলখানেক লম্বা কাঁটাতারের বেড়া, রাস্তা ও সড়ক অবরোধের যন্ত্রপাতি, ডাম্প ও বালুভর্তি শতাধিক ট্রাক। এর মধ্যেই ট্রাম্প সমর্থক ও বিরোধীরা এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের বেফাঁস মন্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ন্যাটোর সমালোচনা তাকে ভিন্ন এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করিয়েছে। তবে এতসব সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে রিপাবলিকানরা। প্রস্তুত তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে যাওয়া মাইক পেন্সও। ‘বাবাকে একটা সুযোগ দিন’ বলে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্পকন্যা ইভাংকা। আগের দিন ট্রাম্প তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে বাস্তব করতে মার্কিন সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক লিংকন মেমোরিয়ালে সমর্থকদের উদ্দেশে আয়োজিত কনসার্টে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২ ঘণ্টাব্যাপী কনসার্টে টবি কেথ, লি গ্রিনউড, স্যাম মোরের মতো তারকারা তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। কনসার্ট শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশ ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করব। সব মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্র্র্রকে ফের বিখ্যাত হিসেবে গড়ে তুলব। দেশের সবাই এর সুবিধা পাবেন। পরিবর্তন আসবে।’
ওবামার শেষ বাক্য : শুক্রবারই হোয়াইট হাউস ছেড়ে যান বারাক ওবামার পরিবার। দীর্ঘ ৮ বছর এ প্রাসাদে বসবাস করেছেন তারা। প্রেসিডেন্ট ভবনে শেষ দিনটি সবাইকে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পার করেছেন বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় ওবামাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি কি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই’। আরেক সাংবাদিক জানতে চান, ‘আমেরিকানদের জন্য আপনার কোনো শেষ বাক্য?’ ওবামা বলেন, ‘ধন্যবাদ’। ট্রাম্পের শপথের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেন। সাবেক ফার্স্টলেডি হিসেবে মিশেল মেলানিয়ার হাতে হাত মেলান। অনুষ্ঠান শেষে ওবামা পরিবারকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তুলে অ্যান্ড্রু এয়ারফোর্স ঘাঁটিতে পৌঁছে দেয়া হয়। সেখান থেকে অন্য একটি বিমানে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংয়ে পৌঁছান। এখানে আপাতত ছুটি কাটাবেন ওবামা পরিবার। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ট্রেনে চড়ে নিজের শহর দিলাওয়ারে চলে যান। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি সেক্রেটারি এরিক শুলতজ টুইটারে লিখেছেন, ‘৬ বছর কাটিয়ে শেষবারের মতো দরজাটি পার হতে যাচ্ছি।’ শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের প্রেস বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট করেন ওবামার বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট।
হিলারির অভিব্যক্তি : অভিষেকে যোগ দেয়া নিয়ে টুইটারে অভিব্যক্তি জানিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রকে সম্মান জানাতে আজ আমি এখানে। আমি কখনোই আমাদের দেশ ও এর ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস হারাব না।’ ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের চেয়ে ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েও ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে হেরে যান হিলারি ক্লিনটন।
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ : মার্কিন ইতিহাসে এ প্রথম কোনো বিভক্ত শপথ অনুষ্ঠান থেকে নিজের যাত্রা শুরু করলেন ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতাদের অন্তত ৬০ সদস্য, বহু রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাসহ অনেক বিশিষ্টজন ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন। ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সংখ্যা বারাক ওবামার প্রথমবার অভিষেকে অংশগ্রহণকারীর অর্ধেক। এর মধ্যে দুই লাখের বেশি ছিলেন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারী। যুক্তরাষ্ট্র্র ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়। অভিষেক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ-বিশৃংখলা ঠেকাতে আইনশৃংখলা বাহিনী বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছিল। কম-বেশি ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের তিন বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নিরাপত্তার দেয়াল গড়ে তোলেন। সঙ্গে ছিল মাইলখানেক লম্বা কাঁটাতারের বেড়া, রাস্তা ও সড়ক অবরোধের যন্ত্রপাতি, ডাম্প ও বালুভর্তি শতাধিক ট্রাক। এর মধ্যেই ট্রাম্প সমর্থক ও বিরোধীরা এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের বেফাঁস মন্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ন্যাটোর সমালোচনা তাকে ভিন্ন এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করিয়েছে। তবে এতসব সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে রিপাবলিকানরা। প্রস্তুত তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে যাওয়া মাইক পেন্সও। ‘বাবাকে একটা সুযোগ দিন’ বলে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্পকন্যা ইভাংকা। আগের দিন ট্রাম্প তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে বাস্তব করতে মার্কিন সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক লিংকন মেমোরিয়ালে সমর্থকদের উদ্দেশে আয়োজিত কনসার্টে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২ ঘণ্টাব্যাপী কনসার্টে টবি কেথ, লি গ্রিনউড, স্যাম মোরের মতো তারকারা তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। কনসার্ট শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশ ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করব। সব মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্র্র্রকে ফের বিখ্যাত হিসেবে গড়ে তুলব। দেশের সবাই এর সুবিধা পাবেন। পরিবর্তন আসবে।’
ওবামার শেষ বাক্য : শুক্রবারই হোয়াইট হাউস ছেড়ে যান বারাক ওবামার পরিবার। দীর্ঘ ৮ বছর এ প্রাসাদে বসবাস করেছেন তারা। প্রেসিডেন্ট ভবনে শেষ দিনটি সবাইকে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পার করেছেন বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় ওবামাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি কি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই’। আরেক সাংবাদিক জানতে চান, ‘আমেরিকানদের জন্য আপনার কোনো শেষ বাক্য?’ ওবামা বলেন, ‘ধন্যবাদ’। ট্রাম্পের শপথের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেন। সাবেক ফার্স্টলেডি হিসেবে মিশেল মেলানিয়ার হাতে হাত মেলান। অনুষ্ঠান শেষে ওবামা পরিবারকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তুলে অ্যান্ড্রু এয়ারফোর্স ঘাঁটিতে পৌঁছে দেয়া হয়। সেখান থেকে অন্য একটি বিমানে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংয়ে পৌঁছান। এখানে আপাতত ছুটি কাটাবেন ওবামা পরিবার। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ট্রেনে চড়ে নিজের শহর দিলাওয়ারে চলে যান। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি সেক্রেটারি এরিক শুলতজ টুইটারে লিখেছেন, ‘৬ বছর কাটিয়ে শেষবারের মতো দরজাটি পার হতে যাচ্ছি।’ শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের প্রেস বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট করেন ওবামার বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট।
হিলারির অভিব্যক্তি : অভিষেকে যোগ দেয়া নিয়ে টুইটারে অভিব্যক্তি জানিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রকে সম্মান জানাতে আজ আমি এখানে। আমি কখনোই আমাদের দেশ ও এর ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস হারাব না।’ ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের চেয়ে ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েও ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে হেরে যান হিলারি ক্লিনটন।

No comments:
Post a Comment