রাজধানীর
কারওয়ান বাজারে মাছ বেচাকেনা এখন রেললাইন পর্যন্ত গড়িয়েছে। শুধু তাই নয়,
রেললাইনের ওপর এখন সারি সারি ঝুড়ি নিয়ে বসেন মাছ ব্যবসায়ীরা। ভোর থেকে
সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এখানে বেচাকেনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেনাবেচা চললেও
বাধা দেয়ার কেউ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
সঙ্গে যোগসাজশে চলে এ বাজার। বিনিময়ে পুলিশ কর্মকর্তারা পান মাসোয়ারা।
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ভূসম্পদ কর্মকর্তা এসএম রেজাউল করিম জানান,
তাদের দফতরে লাইন পাহারা দেয়ার কোনো লোক নেই। লাইনের ওপর মাছ বাজারসহ
কারওয়ান বাজার রেললাইন ঘেঁষা অবৈধ স্থাপনা বহুবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু
উচ্ছেদ করার পরপরই এক শ্রেণীর দালাল, স্থানীয় ক্ষমতাসীন লোকজন আবার অবৈধ
স্থাপনাসহ রেললাইনের ওপর মাছ বাজার বসিয়ে দেয়। তিনি জানান, কারওয়ান বাজারের
মাছ বাজারটির অধিকাংশই রেললাইনের জায়গায়। অবৈধ এ স্থাপনা উচ্ছেদে আবারও
অভিযান চালানো হবে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, এফডিসি গেট থেকে কারওয়ান
বাজার রেলওয়ে বস্তি পর্যন্ত লাইনের দু’পাশ অবৈধ স্থাপনায় ভরা। লাইন থেকে
কোথাও এক ফুট আবার কোথাও দেড় ফুট ঘেঁষা সারি সারি ঝুপড়ি। লাইন দিয়ে সমানে
হাঁটছেন সাধারণ মানুষ।
এ লাইনের ওপরই সারি সারি ঝুড়ি নিয়ে বসেছেন মাছ
ব্যবসায়ীরা। বেশ কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, একটু ভেতরে (লাইনের বাইরে) মাছ
বিক্রি করতে হলে ডালাপ্রতি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়
লাইনম্যানদের। আর এখানে ( লাইনের ওপর) মাছ বিক্রি করলে তেমন দিতে হয় না।
ডালা প্রতি মাত্র ১শ’ টাকা দিলে চলে। মামুন নামের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান,
তারা প্রতিদিন ২শ’ টাকার বিনিময়ে দু’জন টোকাই রেখেছেন। ট্রেন এলে দু’জন
টোকাই দু’প্রান্ত থেকে ‘ট্রেন আহে, ট্রেন আহে’ বলে জোরে ডাক দেয়। আর ডাক
শুনে আমরা মাছের ঝুড়ি নিয়ে সরে যাই। তেজগাঁও এলাকা থেকে আসা মাছ ক্রেতা
পারুল আক্তার ও বিউটি জানান, লাইন ঘেঁষা মাছের যে বাজারটি রয়েছে তা দুপুরের
আগেই শেষ হয়ে যায়। আর লাইনের ওপরের মাছ বাজারটি ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত
থাকে। ঝুঁকি নিয়ে আপনি কেন লাইনের ওপরে বসা বাজার থেকে মাছ কিনছেন? এমন
প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, বাজার আছে তাই আসি। বাজার বন্ধ করে দিলে আর আসব
না। রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, লাইনের ওপর অস্থায়ী
মাছের বাজার বসার কারণে লাইন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নোংরা হচ্ছে।
ভূ-সম্পদ বিভাগ যদি উচ্ছেদের পর বেড়া কিংবা দেয়াল দিতে পারত তাহলে লাইনের
ওপর মাছ বাজার কিংবা লাইন ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হতো না।
ঢাকা
রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক যুগান্তরকে জানান, ওই এলাকায় আমাদের কোনো
পুলিশ ফাঁড়ি নেই। তাই ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই রেল লাইনে বসে পড়েন। কয়েকদিন
পরপরই ওই এলাকায় লাইনের পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে আবার
লাইন ঘেঁষে ও লাইনের ওপর বাজার বসে। উচ্ছেদের পরপর যদি দু’পাশে বেড়া কিংবা
দেয়াল দেয়া যায় তাহলে এ সমস্যার সমাধান হতো। লাইনের ওপর বাজার এবং লাইন
ঘেঁষে ঝুপড়ি থাকায় কারওয়ান বাজার দিয়ে ধীরগতিতে ট্রেন চলে। একের পর এক হর্ন
দিয়ে ওই এলাকা পার হতে হয়। এফডিসি সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত এক
গেটম্যান জানান, লাইনের ওপর মাছ বাজার বসায় তারাও ট্রেন কখন আসে তা দেখতে
পান না। ট্রেনের হর্ন শোনার পর লাইনে থাকা ক্রেতা-বিক্রেতারা হুড়োহুড়ি করে
সরে যান।

No comments:
Post a Comment