স্ত্রী
হত্যার দায়ে স্বামীসহ তিনজনের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে দেশের সুপ্রিম
কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির আপিল খারিজ
করে দিয়ে এই রায় দেয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল
বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। আপিল বিভাগের রায়ে স্বামী মোহম্মদ জাহিদ
হোসেন জুয়েল, গাড়িচালক মোহম্মদ শাহিন আলম ও ভাড়াটিয়া খুনি মোহম্মদ মিজানুর
রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তরা এই
রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ পাবে। রিভিউ খারিজ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা
ভিক্ষার আবেদন নাকোচ করে তাদের ফাঁসি কার্যকরে আর আইনগত বাঁধা থাকবে না।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও
আসামি পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, তাহমিনা
শারমিন তানিয়ার (২৮) স্বামী জাহিদ হোসোন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার
স্ত্রীকে হত্যা করেন।
২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি পটুয়াখালীর কুয়াটাকার সমুদ্র
সৈকতে স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। আর এই হত্যাকাণ্ডে জুয়েলের সঙ্গে শাহীন ও
মিজান অংশ নেন। এই ঘটনার পরদিনই কলাপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন
নিহতের ভাই রায়হান গফুর। মামলায় এজহারে বলা হয়, কুয়াকাটার পর্যটন হলি হোমসে
যান তারা। সেখানে প্রাইভেটকারে করে সমুদ্র সৈকত ঘুরতে যান। রাত ১১টার সময়
তানিয়াকে গাড়ির ভেতর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন শাহীন ও মিজান। এ
সময় তাদের সঙ্গে ছিল ১০ মাস বয়সী পুত্রসন্তান। পরে এই ঘটনাকে ছিনতায়ের ঘটনা
সাজিয়ে পুলিশের কাছে বর্ণনা দেন জুয়েল। কিন্তু তদন্তে পূর্বপরিকল্পনার
অনুযায়ী স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি
পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দেয়। ২০১২ সালের ৮ জুলাই
নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন
আসামিরা। আজ আপিলের শুনানির শেষে তা খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

No comments:
Post a Comment