‘সিজারিয়ান
অপারেশনের পর আমি আমার দুই ছেলে সন্তানের মুখ দেখেছি, ওদের কান্না শুনেছি।
এ ছাড়া আলট্রাসনোগ্রামেও আমার দুই সন্তানের ছবি রয়েছে। কিন্তু প্রতারক ও
শিশু পাচারকারী ডাক্তার শেষ পর্যন্ত কোলে একটি সন্তান দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে
জোর করে আমাকে ক্লিনিক থেকে বের করে দিল। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। শিশু
পাচারকারী ডাক্তারের বিচার চাই।’ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের শেষে আদালত
প্রাঙ্গণে এভাবেই বুক চাপড়ে বিলাপ করতে থাকেন সন্তান হারানো মা শামীমা
আক্তার। তার হাহাকার ও আর্তনাদে আদালত প্রাঙ্গণের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
আদালতের বিচারক মো. আওলাদ হোসেন ভুঁইয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার
নির্দেশ দিয়েছেন। জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জালুয়াবাদ গ্রামের কৃষক আবদুর
রশিদের স্ত্রী শামীমা আক্তার আদালতে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘তিনি
৩৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা
রিভারভিউ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সার্ভিস সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম
করান। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে দেখা যায়, তার গর্ভে দুটি ছেলে সন্তান
রয়েছে। ক্লিনিকের ডাক্তাররা সম্ভাব্য ডেলিভারি তারিখ ২৮ ডিসেম্বরের কথা
জানালে তিনি বাড়ি চলে যান। কিছুদিনের মধ্যেই পেটে যমজ সন্তানের নড়াচড়া
অনুভব এবং প্রসব ব্যথা হলে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে যান
শামীমা। সেখানে পুনরায় আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, তার পেটে দুটি সুস্থ ছেলে সন্তান রয়েছে এবং
সিজার ছাড়া সন্তান প্রসব করানো সম্ভব নয়। ক্লিনিকের ফাইলে রক্ষিত
আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টেও দুই সন্তানের ছবি বিদ্যমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে
একই দিন দুপুরে ক্লিনিকের পরিচালক নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ডা. টি আর
জয় ও তার সহযোগীরা এনেসথেসিয়া দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ সন্তান
প্রসব করান। এ সময় শামীমা নিজ চোখে দেখতে দুই সন্তান দেখতে পান এবং তাদের
কান্নাও শুনতে পান। কিন্তু, তিনি কথা বলতে পারছিলেন না।
কিছুটা স্বাভাবিক
হওয়ার পর তিনি অপর সন্তানের কথা জিজ্ঞাসা করলে ফাতেমা আক্তার নামের
ক্লিনিকের এক কর্মচারী জানান, ডাক্তার টি আর জয় তাকে (ফাতেমা) একটি সন্তান
দিয়েছেন। এ কথা শোনার পর শামীমা তার স্বজনদের নিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসা
করলে তারা উত্তেজিত হয়ে একেক সময় একেক কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা
অজ্ঞাত পরিচয় লোকজন নিয়ে তাকে (শামীমা) মারধর করতে উদ্যত হয় এবং ক্লিনিক
থেকে বের করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও ৩ জানুয়ারি তাকে
ক্লিনিক থেকে রিলিজ দেয়া হয়। তখন শামীমা অপর সন্তান ছাড়া ক্লিনিক থেকে বের
হবেন না বলে জানালে আসামিরা তাকে ও তার কোলের সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি
দিয়ে ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়। সন্তান হারা মা শামীমা মামলায় ক্লিনিকের
চিকিৎসক কিশোরগঞ্জ নগর মাতৃসদনের প্রসূতি ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. টি আর জয় ও
ক্লিনিকের পরিচালক মো. নাছির উদ্দিনকে আসামি করেছেন।

No comments:
Post a Comment