সাপুড়েদের
দেশ’ হিসেবে ভারতকে আর অবজ্ঞা করা যাবে না। কারণ এই সাপুড়েদের হাত ধরেই
ভারতের মান বাড়ল আন্তর্জাতিক বিশ্বে! তামিলনাড়ুর দুই সাপুড়েকে অজগর ধরার
কাজে নিয়োগ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রশাসন। দিন নেই, রাত নেই
ফ্লোরিডার রাস্তায় চলে আসছে বার্মিজ প্রজাতির অজগর। দ্রুতহারে তাদের
বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। তাছাড়া দুই অনুবাদককেও নিয়োগ করা হয়েছে। ফ্লোরিডা ফিশ
অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন অজধর ধরে মেরে ফেলার ‘বিশেষ
প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে ইরুলার দুই সাপুড়ে—মাসি সদাইয়ান এবং
বড়িবেল গোপাল, অনুবাদক এবং তার দলবলকে তামিলনাড়ু থেকে ফ্লোরিডা নিয়ে যাওয়া
হয়েছে। পুরো প্রকল্পের খরচ ৬৮ হাজার ৮৮৮ ডলার। পুরো ফেব্রুয়ারি মাস তারা
ফ্লোরিডায় থাকবেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানিদের সঙ্গে তারা কাজ
করবেন। দুটো ল্যাব্রেডর প্রথমে অজগর শনাক্ত করবে।
এরপর অজগর ধরে মেরে ফেলা
হবে। দু সপ্তাহেরও কম সময়ে তারা ১৩টি অজগর ধরতে সমর্থ হয়েছেন। কি লার্গোতে
তাদের সাপ ধরা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ‘মিয়ামি হেরাল্ড’ সংবাদপত্র।
বার্মিজ পাইথন ফ্লোরিডার সাপ নয়। এদের স্থায়ী বাসস্থান ভারতেই। মনে করা
হচ্ছে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস চারণভূমি থেকে তা বাইরে বেরিয়ে আসে এবং দ্রুত
বংশবৃদ্ধি করে। ১৯৮০ সালে প্রথম ফ্লোরিডায় দেখা পাওয়া যায় বার্মিজ পাইথনের।
আগে আলেকালে তাদের দেখা মিলত। এখন তাদের আকছার দেখা যাচ্ছে। আর চারণভূমির
বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অজগরের আক্রমণে খরগোশ, র্যাকুন,
অ্যালিগেটর, হরিণ উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অজগর
ধরতে পারলে দেড় হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আইফোনে ‘পাইথন
অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। যাতে অজগর দেখা পেলেই তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো
যায়। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অগত্যা ভারতীয় সাপুড়েদের শরণাপন্ন ফ্লোরিডা।
এখন ৫ থেকে ১০ হাজার অজগর রয়েছে সেখানে।

No comments:
Post a Comment