Saturday, January 21, 2017

অগ্নিকাণ্ডে শতকোটি টাকার ক্ষতিতে কাঁদছেন লাকসামের ব্যবসায়ীরা

কুমিল্লার লাকসাম শহরের প্রাণকেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতকোটি টাকার ক্ষতিতে আহাজারি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে দৌলতগঞ্জ বাজারের মনোহরী পট্টী, স্বর্ণ পট্টী ও কাপড়িয়া পট্টির দেড় শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ৩শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট সম্মিলতভাবে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যান। রাতভর চেষ্টার পর আজ শনিবার ভোরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাতে লাকসাম পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারের মনোহরী পট্টির একটি কসমেটিক দোকান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো টিনশেড দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমেই ফায়ার সার্ভিসের লাকসামের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, চৌয়ারা, বরুড়া, সোনাইমুড়ি, হাজীগঞ্জ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের মোট ৮টি ইউনিট সম্মিলতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু মনোহরী পট্টিতে প্লাস্টিক, আতশবাজি এবং কাপড় পট্টিতে ও কাপড়ের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৮ইউনিটের প্রায় নয় ঘন্টা চেষ্টার পর আজ সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জুয়েলারী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও গণেশ জুয়েলারীর মালিক সুভাষ বণিক জানান, ১৬টি জুয়েলারী দোকানের প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
কাপড়িয়া পট্টির ডক্টর ক্লথ স্টোরের মালিক আবদুল কুদ্দুছ প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করছেন। লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোবারক আলী বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এক পর্যায়ে টিনসেড ভবনে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে আগুনে তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। পরে আমাদের সাথে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী থেকে আসা ৮টি ইউনিটের অব্যাহত চেষ্টায় ভোর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা করলেও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি উপস্থিত থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়েছি। অগ্নিকান্ডে প্রায় দুই শতাধিক দোকান-ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment