আলোচিত
সাত খুন মামলার রায় ঘিরে সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ
আদালত এবং এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ মামলার রায়
ঘোষণা করবেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আদালত এলাকায়
বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর
রয়েছেন। এছাড়া জলকামান, পুলিশভ্যান ও প্রিজনভ্যানও প্রস্তুত রয়েছে। একই
সঙ্গে আদালতে প্রবেশের দুটি ফটকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তল্লাশির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের ২৭
এপ্রিল দুপুরে খুনের শিকার সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাদের হত্যা করে
লাশের সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এর পরদিন ২৮ এপ্রিল
নিখোঁজ নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি প্রথম
মামলা করেন। ৩০ এপ্রিল বিকালে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে প্রথমে ৬ জনের লাশ
উদ্ধার করা হয়।
১ মে সকালে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৮ মে নিহত
আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দ্বিতীয় মামলা করেন। এ ঘটনার
সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে ১৭ এবং ১৮ মে তিন র্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল
তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার এমএম রানাকে
গ্রেফতার করা হয়। ৫ জুন এমএম রানা, ৬ জুন আরিফ হোসেন এবং ১৮ জুন তারেক
সাঈদ মোহাম্মদ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। ২০১৫
সালের ৮ এপ্রিল পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি
মাসে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। এতে ৩৫ জনকে
আসামি করা হয়। এদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ২৩ জন। বাকি ১২ জন পলাতক।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে ২১ জন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৬৪ ধারায়
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১২৭ জনকে।
১০৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে ২০ জন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
দেন।

No comments:
Post a Comment