Saturday, January 14, 2017

থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত দুই ভাই বাঁচতে চায়

জুয়েল ও আলিফ দুই ভাই। ১০ বছর বয়সী জুয়েল ও বছর বয়সী আলিফের মরণ কি বুঝার কথা নয়। কিন্তু প্রতিবেশী বা আত্নীয়স্বজনদের মুখে যখন তারা মরণের কথা শুনে তখন দরিদ্র বাবাকে প্রশ্ন করে-‘বাবা আমরা বাঁচব না কেন ? আমরা তোমাদের সাথেই থাকতে চাই, আমরা মরতে চাই না। আমাদের অনেক বড় ডাক্তারের নিয়ে যাও। জীবন শুরুর আগেই এই শিশু দু’টি থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ওরা নিজেরাও বুঝে গেছে ওরা মরণের দ্বারপ্রান্তে। বাবা-মা বুকের ভেতর এক তীব্র যন্ত্রণা নিয়েও মুখে হাঁসির ভান করে বলেন-‘কে বলেছে তোরা মারা যাবি ? তোরা বেঁচেই তো আছিস; সারাজীবন বেঁচে থাকবি, বাবা’। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কী বৃদ্ধ, কী যুবক, কী শিশু কারো মনই যেতে চায় না, তবুও মরণ এসে জুয়েল ও আলিফকে নিয়ে যেতে চায়, না জানি কোথায়। কেননা, থ্যালাসিমিয়া রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর ক্ষমতাও যে বাবা-মায়ের নেই। পাবনার বেড়া উপজেলার সিংহাসন উজানপাড়ার মোফাজ্জল হোসেন পেশায় একজন ভ্যান চালক। পল্লীগাঁয়ে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে কোন মতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খেয়ে, না খেয়ে সংসার চালান। তার দুই ছেলে জুয়েল ও আলিফ থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসার ভার নেবার মত সামর্থ যে তার নেই। তাই চোখে মুখে কষ্টের ছাপ নিয়ে পাগলের মত ছুটে চলেছেন সন্তানদের বাঁচাতে। যারা এক সময় আনন্দ-হাসিতে মাত করে রাখতো সারাবাড়ির উঠোন সেই শিশুরাই যেন এখন তাদের বোঝা। এদিকে যত দিন যাচ্ছে ততই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে শিশু দুটি। চিকিৎসকরা জানান,
স্বাভাবিক মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন সাধারনত দুটি আলফা ও দুটি বিটা চেইন বহন করে। এ দুটি চেইনের যে কোন একটি পরিমানে কম থাকলে সৃষ্টি হয় থ্যালাসিমিয়া রোগের। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীর লোহিত কণিকার আয়ুস্কাল অনেক কমে যায়। রোগীর হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় লোহিত কণাগুলো সহজেই ভেঙ্গে যায় এবং অস্থিমজ্জার পক্ষে একই হারে লোহিত কণিকা তৈরি সম্ভব হয়ে ওঠে না। একদিকে যেমন রক্ত শুন্যতার সৃষ্টি হয় অন্যদিকে প্লীহা আয়তনে বড় হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত আয়রন জমা হয় হৃদপিন্ড, অগ্নাশয়, যকৃত, অন্ডকোষ প্রভৃতি অঙোগর কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শে দরিদ্র পিতা মোফাজ্জল আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে প্রায় ২ বছর ধরে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে রক্ত পরিসঞ্চালন করলেও কোন পরিবর্তন নেই। একদিকে দরিদ্র পিতা-মাতার পক্ষে প্রতিমাসে যেমন রক্ত পরিসঞ্চালন করা সম্ভব নয়, তেমনি এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি আরোগ্য লাভও সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্ত পরিসঞ্চালন এই রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা। এটাকে স্থায়ী চিকিৎসা বলা যায় না। মূলত বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনই এই রোগের একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা যা অনেক ব্যয়বহুল। এটি না করতে পারলে তাদেরকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তাই প্রবাসী সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি শিশু জুয়েল ও আলিফের চিকিৎসার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন তার অসহায় দরিদ্র পিতা-মাতা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা : সাসুন্নাহার, হিসাব নং-২৪০৫৪৯, জনতা ব্যাংক, পাবনা কর্পোরেট শাখা, পাবনা অথবা বিকাশ নং- ০১৭২১-২৪৮৭৬৪।

No comments:

Post a Comment