ক্ষমতা
গ্রহণের মাত্র পাঁচদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প তার দেশের দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপের নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন।
রোববার ব্রিটেন ও জার্মানির দুটি সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে
ব্রেক্সিট, ন্যাটো সামরিক জোট, অভিবাসী বিতর্ক ও রাশিয়ানীতি মন্তব্য করেন।
এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়াকে তিনি ‘মহৎ
ব্যাপার’ বলে উল্লেখ করেন। অভিবাসী প্রশ্নে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা
মার্কেল ‘বিপর্যয়কর ভুল’ করেছেন বলে মনে করেন ট্রাম্প। খবর এএফপির।
ব্রিটেনের দ্য টাইমস ও জার্মানির বিল্ড পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জার্মান
চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন- এমন প্রশ্নে
থতমত খান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি দুজনকেই বিশ্বাস করব। তবে দেখা যাক
বিশ্বাস কতদিন টেকে!’ ট্রাম্প বলেন, ‘এযাবৎকালে ইউরোপের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তার হাত ধরেই ইউরোপীয়
ইউনিয়নের (ইইউ) লাগাম এখন জার্মানির হাতে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি
(মার্কেল) একটি বিপর্যয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সেটি হল ওই অবৈধদের
(অভিবাসী) আশ্রয় দেয়া।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা বিশ্বাস করি, যদি
তাদের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) শরণার্থীদের নেয়ার জন্য চাপ দেয়া না হতো, তাহলে
আপনাদের ব্রেক্সিটের মতো বিষয়টি আসত না।’ ব্রেক্সিটের প্রশংসা করে তিনি
বলেন, ইইউ ইস্যুতে ব্রিটিশ জনগণের অবস্থান একটা স্মার্ট সিদ্ধান্ত, এটা
একটা বিশাল ব্যাপার।’ ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আপনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান।
এটা আসলে জার্মানি। প্রকৃতপক্ষে এটা জার্মানির জন্য একটা বাহন। এজন্য আমি
মনে করি যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসাটা ছিল একটা খুবই স্মার্ট সিদ্ধান্ত। আমার
বিশ্বাস অন্যরাও বেরিয়ে যাবে।
আমার মনে হয়, একসঙ্গে থাকাটা খুব সহজ হবে
না।’ ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিরও
অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। গত বছরের গণভোটে ভোটাররা কেন ব্রেক্সিটের পক্ষে রায়
দিয়েছে সেটার কারণ সম্পর্কেও ট্রাম্পের ধারণা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাশিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নেয়ায়
মার্কিন প্রশাসন যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে
পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র হ্রাস চুক্তির প্রস্তাব দেবেন তিনি। এই প্রথম পরমাণু
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিলেন ট্রাম্প। ২০১০ সালে
রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি নামে চুক্তির পর
ট্রাম্প নতুন করে দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে যেতে চাইছেন। ওবামা প্রশাসনের
সময়ে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা রাশিয়ার
ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, এখন দেখি আমরা কিছু ভালো চুক্তি করতে পারি
কিনা। ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটোকে সেকেলে ও অকেজো বলে মন্তব্য করেন নতুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ জোটের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো সেকেলে,
আমি এটি বলার পর কত সমালোচনা। এটি সেকেলে কারণ এটি সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে
মনোযোগ দেয়নি। দু’দিন আমি অনেক সমালোচনা সহ্য করেছি, কিন্তু এরপর তারা বলতে
শুরু করেছে, ট্রাম্পই ঠিক।’ যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সুরক্ষা সত্ত্বেও অনেক
ন্যাটো সদস্যই তাদের ভাগের অর্থ পরিশোধ করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে
ন্যাটোকে সেকেলে বললেও এখনও এই জোটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলে জানিয়েছেন
ট্রাম্প।

No comments:
Post a Comment