ক্ষমতার
প্রথম একশ’ দিনের কথা মনে হয় ভুলেই গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প। মাত্র সাত দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিকে নতুনভাবে উপস্থাপন
করলেন তিনি। দেশজুড়ে বিক্ষোভ, দলীয় ভাঙন ও সন্ত্রাসী হামলার হুমকি উপেক্ষা
করে বাণিজ্য, অভিবাসী এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
পূরণের অংশ হিসেবে কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। জাতীয় ও
বৈশ্বিক বিষয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকাকে নাটকীয়ভাবে ঢেলে সাজিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রথম সপ্তাহ অনেকের কাছে খুব শ্রুতিকটু, বিড়ম্বনা এবং
বিরক্তির মনে হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভূমিকাকে বদলে দিতে পেরে বেশ খুশি
ট্রাম্প।
তার কর্মকর্তারা শিখেছেন, কিভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়।
দেশী-বিদেশী বিভিন্ন চোখ রাঙানি সত্ত্বেও ট্রাম্প তার লক্ষ্যের দিকে ধাবিত
হতে পিছপা হননি। আইনপ্রণেতা ও ব্যবসায়ীরা তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। তারা
বলছেন, প্রেসিডেন্ট ও সাবেক টিভি রিয়েলিটি শো’র উপস্থাপক ট্রাম্প কথা বেশি
বলার চেয়ে শোনেন বেশি। যদিও প্রচলিত নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তার
সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী
আদেশগুলো প্রতীকী সিদ্ধান্ত বটে, তবে এর জন্য বেশ খড়কুটো পোড়াতে হবে তাকে।
ট্রাম্পের এ কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে।
সেখানেও কংগ্রেস সদস্যদের পটাতে দক্ষতার প্রকাশ ঘটাতে হবে ট্রাম্পকে।
ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসছে, ট্রাম্প তার খামখেয়ালি
আচরণকে উপেক্ষা করে কি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন? এর সঠিক উত্তর
এখনও কারও কাছে নেই। ট্রাম্পের অগ্রাধিকারমূলক কাজের মধ্যে কোনো রাখঢাক
নেই।
বৃহস্পতিবার ফিলাডেলফিয়ায় রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে এক
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কি কি অর্জন করব তা নিয়ে চিন্তা করুন। মনে
রাখবেন, আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব। এখন অবশ্যই আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।
কথা অনেক হয়েছে, কাজ বাস্তবায়নের আগে আর কোনো কথা নয়।’ সেরাটা দেয়ার সুর
ধরেই ক্ষমতার প্রথম দিনেই বারাক ওবামা প্রশাসনের করা স্বাস্থ্যনীতি ‘ওবামা
কেয়ার’ বাতিল ঘোষণা করে আদেশপত্রে সই করেন ট্রাম্প। এরপরই নজর দেন
ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি বাতিলে। বুধবার মেক্সিকো
সীমান্ত নির্মাণ নিয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তবে তা
নির্মাণে খরচ বহন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।
ক্ষমতা নেয়ার দ্বিতীয় দিনে দুটি নির্দেশে সই করেন ট্রাম্প। নির্দেশগুলো ছিল
দুটি বহু বিতর্কিত জ্বালানি পাইপলাইন তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়া। এর মধ্যে একটি
হল কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শোধনাগারে জ্বালানি তেল আসার জন্য
১১৭৯ মাইল একটি পাইপলাইন নির্মাণ। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে
উদ্বেগের কারণে ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা ওই কাজ স্থগিত করেছিলেন। অন্য
পাইপলাইনটির কাজও গত বছর বন্ধ হয়ে যায় যখন নর্থ ডাকোতা রাজ্যের আদিবাসীরা
এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, এই পাইপলাইন নির্মাণে তাদের
জীবন-জীবিকা ঐতিহ্য নষ্ট হবে। পরিবেশ বা ঐতিহ্য কোনোটাই আমলে না নিয়ে তা
বাস্তবায়নে নজর দিয়েছেন ট্রাম্প।
এ ছাড়া অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ট্রাম্পের
কলমের খোঁচা পড়তে পারে গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের বিরুদ্ধে নির্বাহী
আদেশে। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছর ২০০৯ সালেই ওই কারাগার বন্ধের আদেশে
স্বাক্ষর করেছিলেন সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টুইটার প্রিয় এ
প্রেসিডেন্টের নতুন নতুন সিদ্ধান্তের খবর প্রতিদিন প্রকাশ পায় টুইটারে।
এমনকি মঙ্গলবার শিকাগোতে সংঘটিত একটি বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনাও টুইট
বার্তায় সমাধান করেছেন তিনি। এক টুইটে তিনি হুমকি দিয়ে লেখেন, যদি শিকাগোতে
ভয়ঙ্কর ‘হত্যালীলা’ বন্ধ না হয়, তবে ২০১৭ সালে ২২৮টি গুলির ঘটনায় ৪২ জনকে
হত্যা করা হবে। আমি ফেডারেল বাহিনী পাঠাব। ট্রাম্পের ওই টুইটারের পরেই
নিরাপত্তা কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ফেডারেল সরকারের প্রতি
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিকাগো শহরের মেয়র রাহম ইমানুয়েল বলেন, ‘বন্দুক ও
বন্দুকধারীদের এ ঘটনা সুরাহার জন্য ফেডারেল সরকারের প্রতি সর্বদাই কৃতজ্ঞ
আমি।’ সিএনএন।

No comments:
Post a Comment