নওগাঁয়
শিল্প ও বানিজ্য মেলার অন্তরালে “দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র্যাফেল ড্র” নামক
লটারীর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় আর্থিক ভাবে সর্বশান্ত হচ্ছে
রাণীনগরের সাধারণ মানুষ। উপজেলা সদর, আবাদপুকুর বাজার, সিম্বা, লোহাচূড়া,
চৌমোহনী, বেলঘড়িয়া, খাঁনপুকুর, বগারবাড়ি, কুবরাতলি, কুজাইল, বেতগাড়ী বাজার
সহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে র্যাফেল ড্র
নামক জুয়ার লোভনীয় অফার দিয়ে লটারীর টিকেট বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে
নিচ্ছে জুয়ার পরিচালকরা। জানা গেছে, নওগাঁ জেলা সদরে ‘ নওগাঁ চেম্বার অফ
কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রি’র আয়োজনে পুলিশ লাইন সংলগ্ন মাঠে শিল্প ও
বানিজ্য মেলা গত ৩০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে “দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া
র্যাফেল ড্র ” নামক জুয়ার মাধ্যমে ২০ টাকা মূল্যের টিকেট বিক্রয় করে
রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় সর্বশান্ত
হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব
বয়সের মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে এই জুয়ার নেশায়। আয়োজকদের দিনদিন লাভ বেশি
হওয়ায় স্থানীয় টেলিভিশন চ্যালেনে সরাসরি প্রচার করায় বিশ্বাস বসত্ব
আর্কষনীয় পুরস্কারের আশায় টিকেট কাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এক শ্রেণীর মানুষ।
রবিবার রাতে বিভিন্ন ব্যান্ডের ৭ টি মটরসাইকেল সহ ৯১ টি পুরস্কারের ঘোষনা
দিয়ে ৮/১০ জন প্রচারম্যানরা সিএনজি ও চার্জার গাড়িতে মাইক লাগিয়ে পুরো
উপজেলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে মন ভুলানো কথা বলে সকাল থেকে রাত অবদি বিরতিহীন
ভাবে টিকেট বিক্রয় করে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই এলাকার মানুষের কাছে
টিকেট কেনা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মত হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষ একটা
থেকে একশটা পর্যন্ত টিকেট কেনার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলার সিম্বা গ্রামের
মিলন, করজগ্রামের রতন, কুজাইল গ্রামের শরিফ জানান, মেলার শুরু থেকে
মোটরসাইকেল পাওয়ার আশায় অনেক টিকেট কিনেছি কিছু না পেলেও আশা না ছেড়ে
অদ্যবদি পর্যন্ত টিকেট কিনে যাচ্ছি। গত ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে
রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যানরা র্যাফেল ড্র নামের রাণীনগরে এই জুয়া বন্ধের দাবি
তুললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব এই লটারী বন্ধের ব্যবস্থা
গ্রহণের আশ্বাস দিলেও অদ্যবদি প্রশাসনিক কোন উদ্দ্যোগ চোখে পড়ছে না।

No comments:
Post a Comment