সার্বিয়ার
জারি করা পরোয়ানায় কসোভোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী রামোস হ্যারাডিনাজকে
গ্রেফতার করেছে ফরাসি পুলিশ। কসোভোর রাজধানী প্রিসটিনা থেকে একটি ফ্লাইটে
পূর্ব ফ্রান্সের ব্যাসেল-মুলহাউজ বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেফতার
করা হয় বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। বর্তমানে
হ্যারাডিনাজ কসোভোর বিরোধী দল 'অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভো'র
(এএকে) নেতা। কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে তিনি ফ্রান্স ভ্রমণ করছিলেন। কসোভোর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হ্যারাডিনাজকে গ্রেফতারের ঘটনাকে
অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে সার্বিয়ার জারি করা
পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তার মুক্তির জন্য যা করা প্রয়োজন তার সবকিছুই আমরা করব। ২০১৫ সালের জুনেও
হ্যারাডিনাজকে স্লোভানিয়ান পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।
তবে কূটনৈতিক চাপের মুখে
দুদিনের মাথায় মুক্তি পান তিনি। মুসলিম অধ্যুষিত সার্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয়
প্রদেশ কসোভোতে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে যুদ্ধকালে
হ্যারাডিনাজ গেরিলা কমান্ডারের ভূমিকা পালন করেন। জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালের জুনে
সার্বিয়ার কাছ থেকে কসোভোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বিশ্ব সংস্থাটির
নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থাতেই ২০০৪-২০০৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কসোভোর
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হ্যারাডিনাজ। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর
সমর্থনে ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইউরোপের সবচেয়ে নবীণ রাষ্ট্র
কসোভোর সঙ্গে ফ্রান্সের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সার্বিয়া সরকার দ্য
হেগে জাতিসংঘের আদালতে হ্যারাডিনাজের বিরুদ্ধে দুই দফা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
এনেছিল। তবে প্রত্যেক বারই অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি। বিবিসি জানিয়েছে,
সর্বশেষ ২০১২ সালে দ্য হেগের আদালত হ্যারাডিনাজকে খালাস দেয়। এ সময় আদালত
জানায়, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।

No comments:
Post a Comment