Wednesday, January 18, 2017

ইইউ-ব্রিটেন কড়া সম্পর্কশ্ছেদই চান মে, উদ্বিগ্ন জার্মানি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন৷ মে চান ‘হার্ড ব্রেক্সিট', অর্থাৎ ব্রিটেন ইউরোপীয় একক বাজার থেকেও বেরিয়ে আসবে৷ মে-র এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন জার্মানি৷ ইউরোপীয় একক বাজার (সিঙ্গল মার্কেট) বা অভ্যন্তরীণ বাজার (ইন্টারনাল মার্কেট) হলো ইইউ-এর সেই এলাকা, যার অভ্যন্তরে পণ্য, পুঁজি, পরিষেবা ও মানুষজনের মুক্ত আসা-যাওয়া সম্ভব৷ এগুলোকে বলা হয় ‘চার স্বাধীনতা’৷ মে লন্ডনে বলছেন, যুক্তরাজ্যর পক্ষে ইউরোপীয় একক বাজারের ‘চার স্বাধীনতা’ মেনে চলা সম্ভব নয়, বিশেষ করে মানুষজনের অবাধ যাতায়াতের স্বাধীনতা৷ মে বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় একক বাজারে যতদূর সম্ভব প্রবেশাধিকার বজায় রাখার আশা করে বটে, কিন্তু সেজন্য ব্রাসেলসকে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ প্রদান করতে রাজি নয়৷ মে তার ভাষণের সূচনায় ইউরোপ সম্পর্কে ঘোষণা করেন যে, ‘ইইউ-এর সাফল্য ব্রিটেনের স্বার্থে’ এবং যোগ করেন যে, ব্রিটেন ‘একক বাজারে বৃহত্তম সম্ভব প্রবেশাধিকার’ পাওয়ার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘একটি সাহসী ও উচ্চাভিলাষী’ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করবে৷
কিন্তু যুগপৎ তিনি বলেন, বিশ্বের অপরাপর অংশের সঙ্গে বাণিজ্যও একটি অগ্রাধিকার৷ ‘আমরা বৃহত্তর বিশ্বে বেরিয়ে পড়তে চাই’, বলেন মে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছেন, অ্যামেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে ব্রিটেন ‘লাইনের শেষে নয়, লাইনের আগে’, মে সে-কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইইউ-কে একটি ‘শাস্তিমূলক’ ব্রেক্সিট চুক্তির প্রচেষ্টা করা সম্পর্কে সাবধান করে দেন৷ মে বলেন, ব্রিটেনে কত মানুষ আসছেন, যুক্তরাজ্য তা নিয়ন্ত্রণ করবে৷ অপরদিকে তিনি বলেন যে, তিনি ব্রিটেনে বসবাসকারী ইইউ নাগরিক ও ইইউ-তে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের অধিকারসমূহ নিশ্চিত করতে চান৷ মে জানান যে, ব্রিটেন ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিসের এক্তিয়ার থেকে পশ্চাদপসারণ করবে৷ ইইউ-এর সঙ্গে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনায় স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে শলাপরামর্শ করা হবে৷ চূড়ান্ত ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পর্কে পার্লামেন্টে ভোট হবে, বলে মে জানান৷ এদিকে মে-র এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন জার্মানি৷ তাই খুব তাড়াতাড়ি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

No comments:

Post a Comment